নয়াদিল্লি : বাড়িতে পরিবার রয়েছে। ছেলে রয়েছেন। কিন্তু তাও তাঁকে দেখাশোনার কেউ নেই। দায়িত্ব নিতে না চেয়ে বাড়ি থেকে মাকে বের করে দিল ছেলে। ৭০ বছরের অসহায় বৃদ্ধা লীলাবতী কেদারনাথ দুবে ১৩ কিমি পথ হেঁটে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পৌঁছন বান্দ্রা টার্মিনাসে। সেখানে রেলের আধিকারিকরা নিজেদের উদ্যোগে টিকিট কেটে বাড়ি পৌঁছে দিলেন তাঁকে।

মুম্বইয়ে মেহুল গাওতে থাকেন লীলাবতীর ছেলে দীনেশ কুমার দুবে। আর লীলাবতী দিল্লির ময়ূর বিহারের বাসিন্দা। লকডাউনের আগেই ছেলের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। সেই ছেলেই বাড়ি থেকে শনিবার তাঁকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ।

ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়েই লীলাবতী মুম্বই আসেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে মাকে আর নিজের কাছে রাখতে চায়নি ছেলে। লীলাবতী জানিয়েছেন, তিনি নিজের খরচ ছেলেকে দিতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও অটোরিকশচালক ছেলে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তাঁকে রীতিমত মারধর ও অপমান করা হত বলেও অভিযোগ করেছেন লীলাবতী।

ছেলে ও পুত্রবধূ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পরে হাঁটতে শুরু করেন লীলাবতী। তাঁর কাছে কোনও টাকা পয়সা ছিল না। স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া বিস্কুট খেয়ে কোনও রকমে বান্দ্রা টার্মিনাসে পৌঁছন তিনি। তিনি জানতেন না কোথায় যাবেন। কোনও টাকা পয়সা ছিল না তাঁর কাছে। পরে রেলের কয়েকজন আধিকারিক টার্মিনাসের বাইরে তাঁকে বসে থাকতে কাছে গিয়ে কথা বলেন। সিনিয়র ডিভিশনাল রেলওয়ে অফিসার সুহানি মিশ্র ও তাঁর টিম এই উদ্যোগ নেয়। বান্দ্রা টার্মিনাসের ওয়েটিম রুমে নিয়ে যাওয়া হয় লীলাবতীকে। দেওয়া হয় খাবার, আশ্রয়।

সুহানি মিশ্র পরে একটি টিকিট কেটে দেন তাঁকে, যাতে তিনি নিরাপদে দিল্লি ফিরতে পারেন। রবিবার বিকেলের একটি ট্রেনের এসি কামরার টিকিট দেওয়া হয় লীলাবতীকে। সোমবার তাঁর দিল্লি পৌঁছে যাওয়ার কথা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV