নয়াদিল্লি: অবশেষে হাঁফ ছাড়লেন রেলকর্মীরা। এখনই রেলে বেসরকারিকরণ হচ্ছে না। বুধবার সাফ জানিয়ে দিলেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তবে রেলের বেসরকারিকরণ হওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই ঠিকই, কিন্তু ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন যে রয়েছে সেটা এদিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

রেলের বেসরকারিকরণের ব্যাপারে অনেকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বুধবার রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্ট করলেন, রেলকে বেসরকারিকরণের কোনও সিদ্ধান্তই নেয়নি কেন্দ্র। তবে রেলের জন্য বিশাল আর্থিক বিনিয়োগ চাই বলেও মনে করেন রেলমন্ত্রী।

বুধবার পীযূষ গোয়েল বলেন,”ভারতীয় রেলের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের সংস্থাই থাকবে রেল। ভারতবাসীকে পরিষেবা দেবে।” তবে গোয়েল জানান, সরকার প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলকে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি, রেলের কয়েকটি ইউনিটের কর্পোরেটিকরণ ঘটানো হবে। প্রসঙ্গত, সপ্তদশ লোকসভার শুরু থেকেই সরকার রেলের বেসরকারিকরণ করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের পরিষেবা যাত্রীদের দিতে চাইছেন। রেলে চলতি বছরে একটাও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করলেন পীযূষ গোয়েল। তাঁর কথায়,”চলতি বছর ১ এপ্রিল থেকে একটাও মৃত্যু হয়নি।”

উল্লেখ্য, এর আগে বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সাফ জানান, ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ ও নয়া পরিকাঠামো নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা৷ কিন্তু সে তুলনায় রেল আয় খুবই কম৷ ফলে এই বিপুল অর্থ জোগান দিতে প্রয়োজন বেসরকারি বিনিয়োগের৷ তাই এই মুহূর্তে পরিস্থিতির দাবি মেনে ‘পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ অত্যন্ত জরুরি৷ বাজেটে সীতারমণ আরও জানান, যাত্রী পরিষেবা ও দেশজুড়ে পণ্য জোগানের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত রেলের পরিকাঠামো নির্মাণ তথা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আনুমানিক খরচ হবে প্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকা৷ যা শুধু রেলের আয় থেকে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। আর এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের সমালোচনা শুরু হয়েছিল। আর তাই হয়ত তড়িঘড়ি এই বক্তব্য রাখলেন পীযূষ গোয়েল।‌

অতিসম্প্রতি ৫০টি স্টেশন ও ১৫০টি রেলের বেসরকারিকরণের জন্য কমিটি গঠন করেছে রেলমন্ত্রক। ওই কমিটিতে রয়েছেন নীতি আয়োগের সিইও, রেলবোর্ডের চেয়ারম্যান, অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের সচিব, আবাসন ও নগর বিষয়ক দফতরের সচিব। রেলের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দিয়েছেন নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান। তাতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, বেসরকারি হাতে তুলে দিয়ে দেশের ৪০০টি স্টেশন আন্তর্জাতিকমানের তৈরি করা যেতে পারে।