- Advertisement -

 

শর্মিতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট বাতিল করার পরে প্রাপ্য টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠল এ বার ভারতীয় রেলের বিরুদ্ধে৷ এই ঘটনা কলকাতার৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতির জেরে সমস্যায় পড়েছেন এখন অনেকে৷ তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগও জানিয়েছেন৷ অথচ, নির্দিষ্ট অংকের টাকা তাঁরা এখনও ফেরত পাননি টিকিট সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে৷

- Advertisement -

শুধুমাত্র তাই নয়৷ টিকিট সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে টাকা ফেরত না পাওয়ার জন্য কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, সেই বিষয়টি নিয়েও অনেকে বিভ্রান্ত৷ ভুক্তভোগীদের অনেকের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার এই বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোনও সদুত্তর মিলছে না৷ তেমনই এক ভুক্তভোগী পশুপতিনাথ মিশ্রর কথায়, ‘‘গত বছর ১৩ ডিসেম্বর স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ডেবিট কার্ড দিয়ে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার জন্য গরিবরথ এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছিলাম৷ এই বছর ১৫ জানুয়ারি নিউ জলপাইগুড়িতে যাওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে সেই টিকিট বাতিল করতে হয় আমাকে৷’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর টিকিট বাতিল করার পরেও ৯৭০ টাকা আমি এখনও ফেরত পাইনি৷ প্রায় চার মাস কেটে গেলেও এখনও আমাকে টাকা ফেরত দিচ্ছে না রেল কর্তৃপক্ষ৷ এমনকি কবে সেই টাকা পাবো, আদৌ পাবো কি না, সেই বিষয়েও কোনও আশা দিতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ৷’’ এখানেও শেষ নয়৷ পশুপতিনাথ মিশ্র বলেন, ‘‘টিকিটের জন্য ১,৩৫০ টাকা দিতে হয়েছিল৷ বাতিলের পরে রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়, ৯৭০ টাকা আমি ফেরত পাব৷ কিন্তু, যেহেতু আমি ডেবিট কার্ড মারফত টাকা দিয়েছিলাম, তাই রেল কর্তৃপক্ষ আমার প্রাপ্য ৯৭০ টাকা ফেরত দিতে অপরাগ৷’’

এই ঘটনার জেরে তিনি অভিযোগ জানান সংশ্লিষ্ট টিকিট সংরক্ষণ কেন্দ্রে৷ তিনি জানতে চান, প্রাপ্য টাকা কেন ফেরত পাওয়া যাবে না? তখন টিকিট সংরক্ষণ কেন্দ্রের তরফে তাঁকে বলা হয়, এর জন্য পূর্ব রেলের সিসিএম রিফান্ডস ডিপার্টমেন্টে আবেদন করতে হবে৷ গত সাত মার্চ ওই বিভাগে তিনি লিখিত অভিযোগ জানান৷

কিন্তু, তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি৷ টাকা কবে ফেরত পাওয়া যাবে, এই বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি ওই বিভাগের তরফে৷ বরং, তাঁকে জানানো হয়, এই টাকা সরাসরি ফেরত দেওয়া যাবে না৷ কেন ফেরত পাওয়া যাবে না, তার জন্য ওই বিভাগের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, টিকিট কাটা হয়েছিল স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সোয়াইপ মেশিনের মাধ্যমে৷ মেশিনটি ওই ব্যাংকের হওয়ায়, টিকিট বাতিলের পরে প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ওই ব্যাংকে আবেদন করতে হবে৷

এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্রর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘এই বিষয়ে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই৷ তবে, এই বিষয়ে খোঁজ নেব৷’’ একই সঙ্গে তিনি এই বিষয়ে সিসিএম-এর রিফান্ডস ডিপার্টমেন্টেই অভিযোগ জানাতে বলেন৷