‘রোদনে ভরা এ বসন্ত, সখী কখনো আসেনি বুঝি আগে।
মোর বিরহবেদনা রাঙাল কিংশুকরক্তিমরাগে।
তোমার বৈশাখে ছিল
প্রখর রৌদ্রের জ্বালা,কখন‌ বাদল আনে আষাঢ়ের পালা,
হায় হায় হায় ।’

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ‘বিশেষ বন্ধু’ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের বিশ্লেষণটি যেন অনেকটা এমনই। একটু অদল বদল করে নিতে হবে। তাঁদের উপর হামলা বা কটু কথায় শোভনবাবু গোপনে কাঁদেন কিনা জানা নেই, তবে তাঁর সখী কাঁদেন না। তিনি স্পষ্ট বক্তা।

সখার বিরহ কতটা তা অজানা , তবে সখীর যেটুকু বিরহ সেটুকু তাঁর মা এবং সন্তানদের নিয়ে। বৈশাখের রোদের জ্বালায় শোভনবাবু কেমনভাবে আষাঢ় চান তাও জানা নেই ৷ কিন্তু বৈশাখী ঝড়ে হঠাৎ আষাঢ়ে মেঘ গর্জায় , চমকায়। আবার লুকিয়ে রাখে অনেক কিছু। এভাবেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রায়চক যাত্রার এবং সেই জটকে সহজ ভাষায় সরল করে দিয়েছেন বন্ধু বৈশাখী৷

বুধবার বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনা খোলসা করার সঙ্গেই স্পষ্টভাবে বলে দেন তাঁর ও শোভনবাবুর রায়চক যাত্রার ‘চক্রের’ কথাও। তিনি প্রথমে বলেন “আড়াই দিন ধরে অনেক কিছু সহ্য করেছি। এরপর আমাকে মুখ খুলতেই হতো না হলে আমার পরিবার এটা নিয়ে সাফার করছিল।” এরপরেই তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি , তাঁরা রায়চকে যান, খুব স্বাধীনভাবেই ঘোরাফেরা করেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে হাত দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তিনি যেমনভাবে ইচ্ছা, যার সঙ্গে ইচ্ছা তিনি যেতেই পারেন।

কি বলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়? তিনি বলেন , “যারা অন্ধকারের মধ্যে ঝোপঝাড়ের মধ্যে থেকে ছবি তোলেন তাঁদের জন্য বলছি, আমাকে ফটোশ্যুট করার জন্য ডাকলে আমি এমনই চলে আসব। আমি আর শোভনবাবু খুব ওপেনলি ঘুরি। রায়চকেও যাই। সেটা যদি এবার বলেন প্রেসকে ডেকে যেতে, তাহলে ডাকতে পারি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা ছবি তুলছেন তাঁদের বলব আমার কাছে কে আসছে সেটা জানার অধিকার তাঁদের কে দিয়েছে?” তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করার অধিকার কারও নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

গত রবিবার সপরিবারে রায়চক গিয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে গিয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। রায়চকে যে বাংলোয় তাঁরা উঠেছিলেন, রবিবার রাত থেকেই দুষ্কৃতীরা সেটিকে ঘিরে নিয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাংলোটিকে ঘিরে রেখেছে এবং অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হচ্ছে বলে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন।

এই ঘটনার সময় ডায়মন্ডহারবারের পুলিশ সুপার তেমন সহযোগিতা করছেন না বলেও তাঁর অভিযোগ ছিল। এই সমস্ত কাণ্ডের সূত্রপাত আবার তাঁর এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগের জল্পনাকে কেন্দ্র করে। সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতেই বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে জানিয়েছেন- ‘এখন যাচ্ছি না’৷

প্রতিবেদক: সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা