স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা৷

আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে সোমবার হওয়া এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুলবাবু দাবি করেন রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে৷ পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম পুলিশ বাহিনী৷ পাশাপাশি এদিন গতকালের চাঁপদানী প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে মার খাচ্ছে পুলিশ৷ রবিবার বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর বিক্রম গুপ্তের আত্মীয়কে চিনতে না পারায় তৃণমূল কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয় পুলিশ৷ এলাকার পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে রীতিমত তাণ্ডব চালায় তৃণমূল কর্মীরা৷ ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি এবং বাইক৷ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হলে জানা যায় তাদের মধ্যে ছয়জনই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী৷ এরপর ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়৷ কিন্তু থানায় ভাঙচুরের মত নক্কারজনক কাজে লিপ্ত থাকার পরও কেন তাদের পুলিশি হেফাজতে  নেওয়া হল না তা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি৷পাশাপাশি রাহুলবাবু আরও দাবি করেন রাজ্য পুলিশের উপর হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়৷রাজ্যজুড়ে ক্রমাগত এই ধরনের হামলার ঘটনা লাগাতার ঘটে চলেছে৷ তিনি আরও অভিযোগ কর বলেন, এই সকল ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর পরোক্ষ মদত৷ রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার জন্যও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেন তিনি৷

এদিন রাহুল সিনহা আরও অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন এলাকার পুরপ্রার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীর৷গায়ের জোরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমাগত ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি৷ ইতিমধ্যেই বহু বিজেপি প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হয়েছে বলেও জানান রাহুলবাবু৷ তবে বিজেপি কোনও ভাবেই এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সামনে নতি স্বীকার করবে না বলেও দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি৷

অন্যদিকে রাহুলবাবু আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা৷ এলাকার থানায় অভিযোগ জানিয়েও মেলেনি সুফল৷ ওই বিজেপি কর্মীর বাড়ি লুঠ হওয়ার ঘটনা স্থানীয় থানায় ফোন করে জানানো হলেও নেওয়া হয়নি যথাযথ ব্যব্থাস্৷ এমনকি ঘটনার সময় বিভিন্ন অছিলায় অকুস্থলে পুলিশ  হাজিরই হয়নি বলেও এদিন অভিযোগ করেন রাহুলবাবু৷