ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ৪০ বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে থাকার পরও তাঁকে পদ হারাতে হয়েছে কদিন আগে তৃণমূল থেকে আসা অনুপম হাজরার কাছে। এই ‘অপমান’ মানতে পারছেন না রাহুল সিনহা। তাঁর অভিমান অভিমান ঘোচাতে চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। মঙ্গলবার কলকাতায় রাহুল সিনহার সঙ্গে বৈঠক হয় বিজেপির সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবপ্রকাশের। কিন্তু তাতে রাহুল সিনহার মন গলেনি বলেই খবর।

দলীয় সূত্রের খবর, কৃষি আইনের সমর্থনে রাজ্য জুড়ে প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে এ দিন হেস্টিংসের বিজেপি কার্যালয়ে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিবপ্রকাশ। সেখানেই রাহুল সিনহার সঙ্গে আলাদা বৈঠক হয় শিবপ্রকাশের।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের-প্রস্তুতি নিয়ে আগামিকাল, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, দলের নতুন সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়-সহ কয়েক জন রাজ্য নেতাকে ডাকা হয়েছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে ডাক পাননি রাহুল। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিন শিবপ্রকাশ তাঁকে নড্ডা-শাহদের সঙ্গে ওই বৈঠকে থাকতে বলেন। কিন্তু রাহুল সে ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। দলীয় সূত্রের আরও খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে রাহুলের প্রশ্ন, তাঁর যখন দলে কোনও পদই নেই, তখন কীসের জোরে তিনি বৈঠকে যাবেন?

রাজ্য সভাপতি পদের মেয়াদ ফুরোনোর পরে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক হন রাহুল। গত শনিবার প্রকাশিত বিজেপির সর্বভারতীয় পদাধিকারীর তালিকায় তিনি বাদ পড়েছেন। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা অনুপম হাজরাকে। এ নিয়ে রাহুল প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান।

মুকুল-ঘনিষ্ঠ অনুপম হাজরার কাছে পদ খুইয়ে রাহুল সিনহা বলেছিলেন, ৪০ বছর বিজেপির রাজনীতি করে এসেছি, তারপর দল আমাকে খুব ভালো পুরস্কার দিয়েছে। আমি কোনও সমলোচনা করব না, তবে যা বলার বলব ১০-১২ দিনের মধ্যে। তিনি তৃণমূল থেকে আসা নেতার কাছে পদ হারানো অপমান বলেও মনে করেন।

উল্লেখ্য, মুকুল রায়ও স্বয়ং তাঁর এই ক্ষতে প্রলেপ দিতে চেয়েছিলেন। মুকুল বলেছিলেন, রাহুল সিনহা বাংলার মুখ। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। তবে শিবপ্রকাশের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি রাহুল।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।