নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: বুধবারের দুপুরে কার্যত রণক্ষেত্র চেহারা নিল সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ৷ বাংলায় অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলছে, আর তাই এই সরকারের বদল প্রয়োজন দাবি তুলে, বুধবার লালবাজার অভিযানে নামে বিজেপি৷ ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বাংলায় হিংসার পরিবেশ কায়েম হয়েছে, দাবি বিজেপির৷ শাসক তৃণমূলের হাতে নিহত হন একাধিক গেরুয়া দলের কর্মী সমর্থক৷ সন্দেশখালি যার সর্বশেষ উদাহরণ৷ প্রতিবাদে আজ লালবাজার অভিযানের ডাক দেয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব৷

কৈলাস বিজয়বর্গীয় নেতৃত্বে এই মিছিল লালবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়৷ দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাহুল সিনহা, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসু সহ আরও অনেকেই ছিলেন এই মিছিলে৷ আর এই মিছিল সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে আসতেই পুলিশের সঙ্গে বেধে যায় খণ্ডযুদ্ধ৷ মিছিলকে রুখতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস যেমন ছোঁড়ে তেমন জলকামানেরও ব্যবহার করে৷ রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিজেপির আরও কয়েকজন নেতা অসুস্থ হয়ে যান বলে জানা যায়৷ এই মিছিল থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যে একের পর এক বার্তা দেন বিজেপি নেতারা৷

রাজ্যের এই পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমকে রাহুল সিনহা বলেন, ‘বিজেপিকে মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাচ্ছে এটা সবথেকে বড় প্রমাণ৷ মিছিল পৌঁছনোর আগে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হচ্ছে এমনটা দেখিনি আগে৷ এই সরকার অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এগোচ্ছে, বেশিদিন টিকবে না৷ মমতার সরকার যে হেরে গিয়েছে আজকের ঘটনা তার সবথেকে বড় প্রমাণ৷’ এরই সঙ্গে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি আরও বলেন, ‘যেদিকে রাজ্য যাচ্ছে আমরা না চাইলেও মমতা নিজেই ৩৫৬ করিয়ে ছাড়বেন৷ কিছুদিন পরে পুলিশের মধ্যেও বিদ্রোহ দেখতে পাবেন৷ রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে মুখ্যমন্ত্রীই দায়ি থাকবে,’ এমনই দাবি বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার৷

এদিকে দিলীপ ঘোষ জানান,‘যে নৃশংস রাজনীতি হচ্ছে তার বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছি৷ আইপিএস অফিসারেরা বাড়ির চাকরের মতো কাজ করছে৷ পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে৷ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে৷ আমাদের আন্দোলন করতে দিচ্ছে না৷ সেদিন সন্দেশখালিতে আমাদের কর্মীদের যে গুন্ডারা হত্যা করল, তারপরের দিন সেখানে তৃণমূল নেতারা গিয়েছে, কিন্তু হত্যাকারীরা টিএমসির রক্ষাকর্তা৷ এর পাশাপাশি নাম তুলে ধরে তিনি বলেন, শাজাহান যে কর্মীদের খুন করেছে আমাদের সে আজ টিএমসির রক্ষাকর্তা৷ এই সরকার ক্ষমতায় থাকার অধিকারী নয়৷ মানুষ লোকসভায় তা বুঝিয়ে দিয়েছে’, মিছিল থেকে সাফ জানিয়ে দেন দিলীপ ঘোষ৷