দেবময় ঘোষ, কলকাতা: “চা ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী থেকে চা-ওয়ালি।” বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের লাইন নিয়ে হাজির বিজেপি।

জেলা সফরে মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ছাকনি হাতে চা-ছাঁকতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি সংবাদ মাধ্যমে দেখার পর অনেক বিজেপি নেতা বলা শুরু করেছেন, ছাঁকনি হাতে তৃণমূল কংগ্রেস ছাঁকতে শুরু করেছেন মমতা। এই ছবি প্রতীকী মাত্র। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি নিয়ে বিজেপির অন্দরের এই আলোচনা যথেষ্টই ইঞ্জিতবহ বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দিঘা যাওয়ার পথে কোনও এক ‘রাধারানী স্টোর্স’-এ চায়ের দোকানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চা-ছাঁকার’ দৃশ্য দাবানলের আগুনের মতো রাজ্য রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভোট-গুরু প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে ‘ইমেজ’ পুনরুদ্ধারে নেমেছেন মমতা।

আরও পড়ুন : ‘দিদিমনি মুখ্যমন্ত্রী থেকে চা-ওয়ালি হবেন’, কটাক্ষ সায়ন্তনের

কিন্তু, এমন নয় যে, রাস্তার ধারে মমতা এর কখনও আগে চা খাননি। রাস্তার ধারে চায়ের দোকানের বেঞ্চে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজি-কে নিয়ে একসাথে বসে চা খেয়েছেন। কিন্তু, রাধারানী স্টোর্স-এ এমন কি ঘটলো যে তা নিয়ে এত রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দোকানে বসে চা-চক্রে অংশগ্রহণ করা এবং দোকানে দাঁড়িয়ে চা-ছাঁকার মধ্যে তফাত আছে, তা নিজের মন্তব্যে-ই বুঝিয়েছেন মমতা। তিনি বলেছেন, “বাড়িতে তো চা করিই।”

রাজ্য বিজেপির অন্দরের বিশ্লেষণ, দোকানে দাঁড়িয়ে মমতা আম বাঙালির ‘বাড়ির মেয়ে’ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে এবং পরে মমতা এবং তৃনমূল কংগ্রেসকে তোলাবাজ, গুণ্ডা, দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে গিয়েছেন বিজেপির বড় বড় নেতারা। লোকসভায় ১৮টি আসন হারিয়ে রাজ্যে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল। তবে মমতা ছাড়া তৃণমূল ‘কিছুই নয়’ তা ভালো করেই বোঝেন প্রশান্ত কিশোর, সেই কারণেই বিরোধীদের মূল টার্গেট মমতাই। মমতার ‘ইনেজ’ পুনরুদ্ধারেরই বাঁচবে তৃণমূল – সেই চেষ্টাই করছেন প্রশান্ত৷

আরও পড়ুন : মিডডে মিল ইস্যু: মেনু নির্দিষ্ট করে দিল রাজ্য সরকার

কিন্তু, বিজেপি যে চুপচাপ বসে থাকবে তা নয়। দেশে নতুন এক ‘পলিটিক্যাল চা-ওয়ালি’ তৈরি হতে দিতে রাজি নয় বিজেপি। প্রশান্তর টুকলি নীতির বিরোধিতায় সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপি ইতিমধ্যেই দাবি করেছে , বিস্তারক কর্মসূচি, সদস্যতা অভিযান টুকে তৃণমূল নেতাদের জেলায় জেলায় রাত্রিবাস করাচ্ছেন প্রশান্ত। এবার ‘চা-ওয়ালা’ মোদীর ইমেজ ধার করে মমতার গলায় পরানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহার কটাক্ষ, “মোদীজি চা-ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আরেক জনকে দেখুন (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) মুখ্যমন্ত্রী থেকে চা-ওয়ালি হয়েছেন। “রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যও প্রায় একই। তিনও বলেছেন, “একজন চা-ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আরেকজন মুখ্যমন্ত্রী থেকে চা-ওয়ালা!”