আমেঠি: এটাই বোধহয় ২০১৯ নির্বাচনের সবথেকে বড় পরাজয়। এনডিএ হারুক বা জিতুক, যাকে সামনে রেখে লড়াই করছিল ইউপিএ, যাঁকে নাকি ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্ট করা হচ্ছিল, সেই রাহুল গান্ধী হেরে গেলেন নিজের কেন্দ্র আমেঠি থেকে।

আমেঠি থেকে পরপর তিনবারের সাংসদ তিনি। আমেঠি থেকেই সংসদে পদার্পণ করেছিলেন তিনি। ২০০৪, ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনে বেশ ভালোভাবেই জিতেছিলেন তিনি। তেমন কোনও চ্যালেঞ্জ ছিল না। কিন্তু ২০১৪-তেই আভাস পাওয়া গিয়েছিল লড়াইটা কঠিন হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের লড়াকু নেত্রী স্মৃতি ইরানি প্রচুর ভোট পেয়েছিলেন। তখনই অশনি সংকেত তৈরি হয়েছিল রাহুলের।

তবে, পাঁচ বছর পর যে ঘরটাই হাতছাড়া হয়ে যাবে, সেই হিসেব বোধহয় কষা হয়নি কংগ্রেসের। রাফায়েল নিয়ে সংসদে রাহুলের যুক্তি-তর্ক শুনে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল যে বদলে গিয়েছেন রাহুল। ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু আমেঠির কৃষকরা বোধহয় বুঝতে পারেনি এত মিলিয়ন-বিলিয়নের হিসেব।

শুধু রাহুলের কেন্দ্র নয়, গান্ধী পরিবারের শক্তি ঘাঁটি এই আমেঠি। সঞ্জয় গান্ধী, রাজীব গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী- এরা প্রত্যেকেই আমেঠি থেকে প্রথমবার জয়ী হয়ে সংসদে যান। আজ নয়, সেই ১৯৬৭ থেকে কংগ্রেসের হাতে ছিল আমেঠি। ১৯৮০ থেকে গান্ধী পরিবারের যাতায়াত। ৬৭-তেই এই লোকসভা আসন প্রথম তৈরি হয়।

১৯৬৭- জয়ী হন কংগ্রেসের বিদ্যাধর বাজপেয়ী।

১৯৭১- আবার জয়ী বিদ্যাধর বাজপেয়ী

১৯৭৭- জয়ী হন জনতা পার্টির সঞ্জয় সিং

১৯৮০- সঞ্জয় গান্ধী আবার জিতলেন আমেঠি থেকে

১৯৮১- সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যু পর ওই কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ে জিতলেন রাহুল গান্ধী

১৯৮৪- আবার জয়ী রাজীব

১৯৮৯- তৃতীয়বার জয়ী হন রাজীব গান্ধী

১৯৯১- চতুর্থবার জয়ী রাজীব

১৯৯১ (উপ নির্বাচন)- রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর ভোটে লড়ে জেতেন কংগ্রেসের সতীশ শর্মা

১৯৯৬- আসন ধরে রাখেন সতীশ শর্মা

১৯৯৮- কংগ্রেসের হাত থেকে আমেঠি ছিনিয়ে নেন বিজেপির সঞ্জয় সিং

১৯৯৯- ভোটে লড়লেন সোনিয়া। প্রথমবারেই জয়ী তিনি

২০০৪- সোনিয়া চলে যান রায়বেরেলিতে। ভোটে লড়ে জয়ী হন রাহুল

২০০৯- ফের জয়ী রাহুল

২০১৪- স্মৃতির সঙ্গে কঠিন লড়াইতেই জয়ী রাহুল

২০১৯- স্মৃতির কাছে হার মানলেন রাহুল গান্ধী

গণনা তখনও চলছে। স্মৃতি এগিয়ে ৩০,০০০ ভোটে। তখনই রাহুল গান্ধী সাংবাদিক বৈঠক করে বললেন, ‘স্মৃতিকে অভিনন্দন।’ পরে ভোটের মার্জিন বাড়ে আরও।

কংগ্রেসের গড়ে সহজ জয় দিয়েই আমেঠির সাংসদ হয়েছিলেন রাহুল। ৪৯ শতাংশের মার্জিন ছিল ২০০৪-এ। পরের বার মার্জিন বেড়ে হয় ৫৭ শতাংশ। গান্ধী পরিবারেই বিশ্বাস রেখেছিল আমেঠির মানুষ।

আর ঠিক যখন থেকে কংগ্রেস রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করল, তখন থেকেই কঠিন হল আমেঠির মাটি। তবে কী আমেঠির মানুষ আশঙ্কায় ছিলেন, দেশের মসনদে বসলে রাহুল আর তাকাবেন না আমেঠির দিকে? নাকি দেশের মসনদ জয়ের লক্ষ্যে দৌড়তে গিয়ে ঘর সামলাতেই ভুলে গেলেন রাহুল?