নয়াদিল্লি: শুক্রবার পুলওয়ামায় কাপুরুষোচিত জঙ্গি হামলার বর্ষপূর্তি। বর্বরোচিত সেই হামলার এক বছর পূর্ণ হল। দেশের অন্যতম কালো দিনের এক বছর পার। গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় শহিদ হন ৪০ সিআরপিএফ জওয়ান। দেশের সেই কালো দিনকেই ঢাল করে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ রাহুল গান্ধীর। পুলওয়ামার ঘটনায় কেল লাভবান হয়েছিলেন? প্রশ্ন তুলে মোদীকে খোঁচা রাহুলের৷

শুক্রবারই নিহত শ্রমিকদের স্মৃতিচারণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ নিহতদের স্মরণে টুইটে মোদী লেখেন, ‘শহিদদের আত্মবলিদান ভুলবে না দেশ৷ গত বছর পুলওয়ামায় নিহত সাহসী শহিদদের শ্রদ্ধা জানাই। তাঁরা ব্যক্তিক্রমী ব্যক্তি ছিলেন। দেশের সুরক্ষায় জীবন দিয়েছিলেন। ভারত তাঁদের অবদান ভুলবে না।’

এদিকে, মোদীর এই টুইট-বার্তার পরই তাঁকে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী৷ পুলওয়ামার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লাভ কার হয়েছে? প্রশ্ন তুলে মোদীকে নিশানা রাহুলের৷ পুলওয়ামায় হামলার পিছনে নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতাকেও দায়ী করেছেন রাহুল৷ একইসঙ্গে জঙ্গি হামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ৷ রাহুলের এই মন্তব্য়ের পরই আসরে নেমেছে গেরুয়া শিবির। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যে দেশের জন্য বলিদান দেওয়া শহিদরা অপমাণিত হয়েছেন বলে অভিযোগ বিজেপির।

শুক্রবার সকালে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা নিয়ে মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে টুইট করেছেন রাহুল গান্ধী। টুইটে তিনি লেখেন, ‘আজ আমরা পুলওয়ামায় শহিদ ৪০ জওয়ানকে স্মরণ করছি৷ তিনটি প্রশ্ন আজ উঠছে৷ এই হামলায় সবচেয়ে বেশি লাভ কার হয়েছে? হামলার তদন্ত থেকে কী বেরিয়ে এসেছে? নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতার জেরে এই হামলার ঘটনার দায় বিজেপি সরকারের মধ্যে থেকে কে নেবেন?’

রাহুল গান্ধীর এই টুইট বার্তার কড়া সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি৷ রাহুলকে আক্রমণ করে বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, ‘রাহুল গান্ধী জইশ-এ-মহম্মদ, লস্কর-এ-তইবার মতো জঙ্গি সংগঠনের শুভাকাঙ্খী বলে পরিচিত৷ এমন মন্তব্য করে শুধু কেন্দ্রকেই নয়, সেনাবাহিনীকেও অপমান করেছেন রাহুল। এই ধরনের মন্তব্যকে ঢাল করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরং পাকিস্তানই সুবিধা নেবে।’

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-এ-মহম্মদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ সিআরপিএফ জওয়ান। জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা।

সিআরপিএফের প্রায় ৭৮টি গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় ৪০ সেনা-জওয়ানের। আত্মঘাতী এক জঙ্গি গাড়ি নিয়ে এসে ঢুকে পড়ে সেনা-কনভয়ে। কনভয়ে ঢোকার পরই ঘটে যায় বিস্ফোরণ। প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। উড়ে গিয়ে পড়ে সেনার গাড়ি। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সেনা-জওয়ানদের শরীর।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।