তিরুঅনন্তপুরম: ষষ্ঠদশ লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুটি লোকসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন৷ দুটি কেন্দ্র থেকেই ভোটে জয়ী হন তিনি৷ এবার সেই পথে হাঁটছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ নিজের গড় আমেঠি ছাড়াও কেরলের ওয়ানাড কেন্দ্র থেকে লড়ছেন সোনিয়াপুত্র৷

কংগ্রেস সভাপতির এই দুই কেন্দ্র থেকে লড়াই করা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধী বিজেপি। একই সুর শোনা গিয়েছে কেরলের শাসক বাম নেতাদের গলায়। তবে দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিশেষ ইতিবাচক সুর শোনা গিয়েছে রাহুল গান্ধীর গলায়। খুব স্পষ্ট ভাষায় নিজের উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে দিয়েছেন রাহুল।

বৃহস্পতিবার কেরলের ওয়ানাড কেন্দ্রের মনোনয়ন পেশ করেন রাহুল গান্ধী। এদিন ওই কেন্দ্রে নির্বাচনী সভাও করেন কংগ্রেস প্রার্থী। ভাইয়ের জন্য এদি প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে ভগ্নি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। বিশাল রোড শো-এর এয়োজন করেছিল কংগ্রেস কর্মীরা। রাহুলের র‍্যালির ভিড়ের চাপে জখম হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক।

উত্তর এবং দক্ষিন ভারতের মধ্যে সাম্যতা বজায় রাখতেই সভাপতি রাহুল আমেঠি এবং ওয়ানাড কেন্দ্র থেকে লড়ছেন। গত রবিবার এমনই জানানো হয়েছিল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এদিন রাহুল গান্ধীর মুখেও সেই একই কথা শোনা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমি সমগ্র দেশকে বার্তা দিতে কেরলে এসেছি। সেই বার্তা হচ্ছে- উত্তর,দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম মিলিয়ে ভারত অভিন্ন।” সেই অভিন্ন ভারতের একতার বার্তা দিতেই তিনি কেরল থেকে প্রার্থী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাহুল।

কেরল সহ সমগ্র দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী পরিচালিত কেন্দ্র সরকার লাঞ্ছনা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই বার্তাটিও তিনি দিতে চান বলে জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর কথায়, “আমার লক্ষ্য দক্ষিণ ভারতের কাছে একটা বার্তা দেওয়া। দক্ষিণ ভারতে একটা আলাদা আবেগ রয়েছে। সেই সক্ষীন ভারতের সংস্কৃতি এবং ভাষার সঙ্গে কেন্দ্র, মোদী এবং সংঘ পরিবার লাঞ্ছনা করে চলেছে।”

সমগ্র লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে সিপিএম-এর বিরুদ্ধে একটি শব্দও তিনি খরচ করবেন না বলে জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। যদিও কংগ্রেস সভাপতির জন্য জমি ছাড়তে নারাজ সিপিএম। বামেদের প্রশ্ন, এত কেন্দ্র থাকতে কেরল কেন? তাহলে কি বিজেপিকে ছেড়ে বামেদের প্রধান টার্গেট করেছে কংগ্রেস?

এই দুই বিরোধী দলের বিরোধের মাঝে ফায়দা খোঁজার চেষ্টা করছে বিজেপি। সোমবার এই বিষয়ে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, “বাম-কংগ্রেসের বিরোধের মাঝে এনডিএ জোটকে কেরলের সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে মেনে নেবে।”