পাটনা: মোদী জমানায় শেষ হয়ে গিয়েছে দেশের অর্থনীতি। এই অবস্থায় দেশের অর্থব্যবস্থা চাঙ্গা করতে জ্বালানি দিতে চান রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ‘ন্যায় প্রকল্প’ আসলে ভারতের অর্থব্যবস্থায় জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি।

ক্ষমতায় ফিরলে দেশের পাঁচ কোটি গরিব মানুষকে বার্ষিক ৭২ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কংগ্রেস। কেন্দ্রের এই বিশেষ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ন্যায়। সভাপতি রাহুল গান্ধীর মস্তিষ্ক প্রসূত এই প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কংগ্রেসের ইস্তেহারে। এই প্রকল্পকে দেশের অর্থব্যবস্থার জ্বালানি বলে দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী।

বৃহস্পতিবার বিহারের রাজধানী শহর পাটনায় নির্বাচনী জনসভা করেন রাহুল গান্ধী। সেখানেই ন্যায় প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর কথায়, “ট্র্যাক্টরে যেমন ডিজেল ঢালা হয় তেমনই ন্যায় যোজনা ভারতের অর্থব্যবস্থায় ডিজেলের মতো কাজ করবে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ডিজেল ঢেলে চাবি ঘোরাব আর ভারতের অর্থব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। মানুষের কর্মসংস্থান হবে।”

গত মার্চ মাসে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে যা কার্যত কংগ্রেসের মাস্টার স্ট্রোক ছিল। কংগ্রেসের গরিব দরদী মনোভাব বজায় রাখতে রাহুলের ঘোষণা, ‘‘ক্ষমতায় এলে দেশের ২০ শতাংশ গরিব পরিবারকে বছরে ৭২ হাজার টাকা দেওয়া হবে৷ এই ৭২ হাজার টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পড়বে৷ এতে ৫ কোটি পরিবার উপকৃত হবে৷ নতুন প্রকল্পের নাম ন্যায়৷ ’’ রাহুল জানান, আমরা দুটি ভারত চাই না৷ ধনীদের জন্য এক দেশ, গরিবদের জন্য এক দেশ৷ এই আর্থিক বৈষম্য দুর করতে কংগ্রেসের নতুন প্রকল্প৷

ওই দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন যে মোদী ধনীদের টাকা দেয় কিন্তু কংগ্রেস গরিবদের টাকা দেবে৷

কংগ্রেস সভাপতি সাংবাদিক সম্মেলনে কতগুলি সংখ্যা উল্লেখ করেন৷ প্রকল্পটির বিস্তারিত ব্যাখা তিনি দিতে চাননি৷ যেমন এই প্রকল্পের জন্য কত টাকা খরচ হবে? কোন শর্তে উপভোক্তারা এই সুবিধা পাবেন? সবথেকে বড় প্রশ্ন রাহুল জানান, ন্যায় প্রকল্পে ৫ কোটি পরিবার উপকৃত হবে৷ অর্থাৎ পরিবার পিছু ৭২ হাজার টাকা দেওয়া হলে যে বিপুল অর্থের বোঝা সরকারের কাঁধে চাপবে তাতে আর্থিক ঘাটতি মারাত্মক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও তার সফলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে৷ রাহুলের জবাব, ‘‘এটা সম্ভব৷ তাতে কোনও আর্থিক ঘাটতি হবে না৷ অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা এই নিয়ে বিস্তারিত কাজ করছে৷’’ এই প্রসঙ্গে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি৷ জানান, সেই প্রকল্প যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে এটাও হবে৷