ইন্ডোর: পরিচিত থেকে সাধারণ মানুষ নাকি তাঁকে ‘নকল’ ভাবছে। তাই হতাশা-বিড়ম্বনায় নিজের পদবি বদলাতে চান রাহুল গান্ধী! কি মাথার উপর দিয়ে চলে গেল তো পুরো বিষয়টা? ভাবছেন ভরসন্ধ্যেয় এ আবার কি রসিকতা?

কিন্তু একেবারেই তেমনটা নয়। রসিকতা মোটেই নয় মশাই। নামই এখন জীবনে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনার কারণ মধ্যপ্রদেশের ইনডোরের ২২ বছরের যুবক রাহুল গান্ধী। পাড়া-প্রতিবেশীদের থেকে পরিচিত সকলের কাছেই দিনের পর দিন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির নামের সঙ্গে মিল থাকার কারণে উপহাসের পাত্র হয়ে চলেছেন তিনি। তাই দ্রুত নিজের পদবী বদল করতে চান তরুণ।

ইনডোরের রাহুলের অভিযোগ, তাঁর নিজের নামই দিনের পর দিন তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জের সামিল হয়ে যাচ্ছে। অখণ্ডগড়ের বাসিন্দা রাহুলের নামের সঙ্গে মিল রয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর। নামের সঙ্গে হুবহু মিল থাকার কারণেই বিভিন্ন সময় বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। যার জেরেই রীতিমত বিরক্ত তিনি। হতাশার সুরেই তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সময় মানুষ তাঁকে ‘নকল মানুষ’ ভেবে ভুল করেন। এমনকি তিনি অভিযোগ করেছেন, ফোনের সিম কার্ড তুলতে গেলেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাঁকে। পোহাতে হয় হ্যাপা। টেলিকম অপারেটররা তাঁকে সিমকার্ড দিতে অস্বীকার করেন। ভাবেন তিনি আদতে একজন নকল মানুষ।

রাহুলের কথায়, “আমার পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড রয়েছে। মোবাইল ফোনের সিম কেনার জন্য আমি সেটা নিয়ে দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার আধার কার্ডটা দেখাই। সেখানে আমাকে ‘নকল’ হিসেবে গণ্য করা হয়।” এছাড়াও অন্য কোন কাজের ক্ষেত্রেও মানুষ আমাকে নকল ভাবেন শুধু আমার নামের জন্য। তাঁরা সন্দেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন।” শুধু তাই নয়, একদিন ইনডোরে আমার বাড়িতে একজন ব্যাংক আধিকারিক আমাকে ফোন করেন। আমি যখন তাঁকে বলি আমার নাম রাহুল গান্ধী। তখন তিনি রীতিমত হাসতে শুরু করেন। বলেন, কংগ্রেস নেতা কবে দিল্লি থেকে ইনডোরে এলেন! তারপর ফোনটি কেটে দেন।

নিজের স্বর্গীয় পিতা রাজেশ মালব্যকে উল্লেখ করে নিজের হতাশার ঘটনা জানিয়ে একজন শীর্ষ বিএসএফ কর্তাকে রাহুল বলেন, আধা সামরিক বাহিনীতে ধোপার কাজ করতেন তাঁর বাবা। তখন তাঁর বাবাকে সকলে গান্ধী নামে ডাকতেন। তখন থেকেই তাঁদের পদবি গান্ধী হয়ে যায়। তারপর থেকেই রাহুকেও স্কুলে নিজের পদবী ‘গান্ধী’তে বদল করতে হয়। তবে এখন আইনি পথেই নিজের পদবি বদল করতে চান রাহুল।