স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: খুব দূরে নেই লোকসভা ভোট৷ কিন্তু এখনও জোটের জট ছাড়াতে পারেনি বাংলার কংগ্রেস-সিপিএম৷ উৎসবের মরসুম কাটলেই সেই জট খুলবে বলে জানা যাচ্ছে৷ কংগ্রেস সূত্রের খবর, জানুয়ারি মাসে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বৈঠক যাওয়ার কথা৷ সেখানে বাংলা ও ত্রিপুরার আসন সমঝোতা নিয়ে কথা হতে পারে৷

২০১৬ সালে বাংলায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করেছিল কংগ্রেস-সিপিএম৷ সেবার দুর্বল সংগঠন নিয়েও জোট ৭৭টি আসন পেয়ে নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে পেরেছিল৷ তবে সেই বন্ধুত্ব স্থায়ী হয়নি৷ কারণ বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিল৷ পরের একটি উপনির্বাচনেই ভেঙে যায় ওই জোট৷ তখন প্রদেশ কংগ্রেস জোট চাইলেও সিপিএম রাজি হয়নি৷ কিন্তু এবার লোকসভার আগে জোট রসায়নে টনক নড়েছে সিপিএমের৷

ফাইল ছবি

সম্প্রতি কলকাতায় সীতারাম ইয়েচুরি কংগ্রেসকে সরাসরি জোটের বার্তা দিয়েছেন৷ এবং সেইসঙ্গে ব্রিগেডে কংগ্রেসকে আমন্ত্রণ জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ এদিকে, সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নানরা আগে থেকেই জোটে রাজি থাকলেও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র একক লড়াইয়েরই পক্ষপাতি৷ তিনি রাহুল গান্ধীর কাছে একলা চলার জন্য সওয়াল করছেন৷

ছোড়দার এই একলা চলার নীতিই চাপ বাড়িয়েছে আলিমুদ্দিনের। তবে তৃণমূলের সঙ্গে জোটে আপত্তি থাকলেও তাঁর যে সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলাতে আপত্তি নেই তেমন ইঙ্গিতও কিন্তু সোমেন মিত্র দিয়েছেন৷ কয়েকদিন আগে তিনি বলেছিলেন, ওরা জোট চাইলে আগে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলুক৷

বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, “আমরা এখনও বলছি তৃণমূলের সঙ্গে কোনও জোট করব না। কিন্তু সিপিএমকেও বুঝতে হবে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জোট হয় না। মানুষের সামনে খোলাখুলি কথা বলতে হবে।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর সঙ্গে আলোচনায় বসুন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।”

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রস্তাব নিয়ে বারবারই আপত্তি তুলছেন ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো বামফ্রন্টের ছোট শরিক দলগুলি। তাদের কটাক্ষ করে মান্নান সাহেব বলেন, কয়েকটা দল রয়েছে বামফ্রন্টের, যাদের অস্তিত্ব নেই, তারা বাধা দিচ্ছে। আর সিপিএম তাতেই বাহানা করছে।

সূত্রের খবর, তিন রাজ্যে ভোটের ফল প্রকাশের আগে দিল্লিতে একটি কর্মসূচীতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ইয়েচুরির জোটের ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে৷ কংগ্রেসের একটা অংশ এবং আলিমুদ্দিনের আশা জানুয়ারিতে বৈঠকের পরই তাদের জোটের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে৷ সিপিএমের সঙ্গে যে সমস্ত কংগ্রেস নেতারা জোট চাইছেন তাঁদের দাবি, ২০১৬ সালে জোট করে সিপিএমের থেকেও আখেরে লাভ বেশি তাদেরই হয়েছে৷

উনিশের ভোটেও বাংলায় কংগ্রেস-সিপিএম জোট হলে সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশে তাঁরা ভাগ বসাতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা। মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, রায়গঞ্জ, জঙ্গিপুর, মালদহের দুটি আসন সহ অন্তত ১৫ টি আসনে তখন লড়াইয়ে থাকবে জোট।সিপিএম-কংগ্রেস জোটের সম্ভবনা তৈরি হলেও দুই দলই নিজেদের সসংগঠনকে তৈরি করছে একলা লড়াইয়ের জন্য৷