কলকাতা: দেশে এমন কোনও নেতা নেই যিনি দলের হারের দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু সেই কঠিন কাজটাই করে দেখিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এমনই মত লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর।

তিনি এক টেলিফোনিক সাক্ষাতকারে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, রাহুল গান্ধীর মত দায়িত্বশীল নেতা ভারতীয় রাজনীতিতে নেই। যেভাবে সব দায়ভার কাঁধে নিয়ে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন, তা নজিরবিহীন। এই সাহস আর কেউ দেখাতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় দলের অন্তরেই তৈরি হয়েছিল অসন্তোষ। রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেছিলেন একাধিক শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা। তাঁরা বলেছিলেন এভাবে মাঝপথে দলকে ফেলে চলে গেলে কর্মীদের মনে বিরূপ মনোভাব তৈরি হবে, সমস্যায় পড়বে দল।

এদিন অধীরের কথায় উঠে আসে সেই সমালোচনার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, শীর্ষস্থানীয় বহু নেতাই কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দেওয়াকে ভালো চোখে দেখেননি। কিন্তু রাহুল গান্ধী ওই পদে থেকে গেলে হয়তো কংগ্রেসের জন্য সাময়িকভাবে ভালো হত, কিন্তু ওই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে যে নজির তিনি তৈরি করলেন, তা একমাত্র রাহুল গান্ধী বলেই সম্ভব ছিল। তাঁর নৈতিকতার ধারেকাছে কেউ আসেন না। প্রত্যেকের তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

রাহুল গান্ধী যদি কংগ্রেস সভাপতির পদে ফিরে আসেন, তবে অবশ্যই তা স্বাগত জানানোর মত সিদ্ধান্ত হবে বলে মতপ্রকাশ করেন অধীর। তাঁর মতে গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউই কংগ্রেস চালাতে পারবে না। গান্ধী বা নেহেরু পরিবারের বাইরে থেকে কেউ এসে কংগ্রেসের হাল ধরতে পারবে না।

ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেস নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গান্ধী ও নেহেরু পরিবারের নামে। এই পরিবার দুটির হাত ধরেই কংগ্রেস পরিচিতি পেয়েছে বলে মত অধীরের। তিনি এদিন বলেন নাম মাহাত্ম্য বলে একটা ব্যাপার রয়েছে। সেটা কংগ্রেস বহন করে। আর তা জড়িয়ে রয়েছে এই দুই পরিবারের সঙ্গে। তিনি এদিন বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলির কাজের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে আদর্শ ও নৈতিকতার অভাব দেখা যায় এই ছোটদলগুলোতে। বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে একমাত্র মোকাবিলা করতে পারে কংগ্রেসের ঐতিহ্য ও আদর্শ। আর কোনও দলের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়।

অধীর জানান, ফের কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা সোনিয়া গান্ধীর ছিল না। কিন্তু রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের পর আর কারোর পক্ষে এই দলের মানসিকতা বুঝে কাজ করার ক্ষমতা ছিল না। সোনিয়া গান্ধীই সঠিক মানুষ কংগ্রেসের হাল ধরার জন্য।

প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাফল্য নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই দ্বিমত রয়েছে। ২০০৪ ও ২০০৯ সালে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বেই কংগ্রেসের অভূতপূর্ব জয় দেখেছিল গোটা দেশ। অধীরের বিশ্বাস সেই সুদিন আবার ফিরবে কংগ্রেসে। সাধারণ কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে এনে ফের জয়ের মুখ দেখাবেন সেই সোনিয়াই।