নয়াদিল্লি: ঘরের মাঠ আমেঠিতে রাহুল গান্ধী বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে গিয়েছেন৷ হারের পর জনতার রায় তিনি মাথা পেতে মেনে নিয়েছেন৷ তবে এখনই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন না সোনিয়া পুত্র৷ আমেঠিকে ফিরে পেতে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে আবারও ঝাপাবেন রাহুল গান্ধী৷ কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতার তেমনই দাবি৷

ওই নেতার জবাব, আমেঠি এবার তাদের মতামত দিয়েছে৷ ফল কংগ্রেসের বিপক্ষে গিয়েছে৷ কিন্তু রাহুল গান্ধী দমবার পাত্র নন৷ আমেঠি ছেড়ে তিনি কোথাও যাবেন না৷ তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল আমেঠির উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন৷ এবং আগামিদিনে করবেনও৷ ২০২৪ সালে তিনি ফের এই কেন্দ্র থেকে লড়ে জিতে দেখাবেন৷’’

বৃহস্পতিবার তখনও ফল ঘোষণা হয়নি৷ তার আগেই আমেঠিতে পরাজয় স্বীকার করে নেন রাহুল৷ বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানির কাছে প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান কংগ্রেস সভাপতি৷ পরে সাংবাদিক সম্মেলনে স্মৃতির উদ্দেশ্যে শুধু বলেন, আমেঠির খেয়াল রাখবেন৷

তবে আমেঠিতে গান্ধীদের পরাজয় আগেও হয়েছে৷ ওই কংগ্রেস নেতা জানান, ১৯৬৭ সালের পর এই নিয়ে তিনবার আমেঠি গান্ধী পরিবারের হাতছাড়া হয়েছে৷ ১৯৬৭তে আমেঠিতে জয়ের স্বাদ পায় কংগ্রেস৷ তার দশবছর পর ১৯৭৭ সালে সঞ্জয় গান্ধী জনতা দলের কাছে এই আসনে হেরে যান৷ পরে ১৯৮০ সালে তিনি এই কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন৷ ১৯৮১ সালে বিমান দুর্ঘটনায় সঞ্জয়ের মৃত্যু হলে ভাই রাজীব এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়ান৷ উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জেতেন৷ তারপর ১৯৮৪ ও ১৯৮৯ সালে এই কেন্দ্র রাজীব গান্ধী ধরে রাখেন৷

১৯৯১ সালে ফের বিপর্যয় নেমে আসে গান্ধী পরিবারে৷ মৃত্যু হয় রাজীব গান্ধীর৷ তাঁর মৃত্যুর পর আমেঠি কেন্দ্রটি খালি হয়৷ সেই কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ক্যাপ্টেন সতীশ শর্মা৷ এরপর ১৯৯৮ সালে ফের আমেঠি কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়৷ ওই বছর বিজেপির সঞ্জয় সিং এখানে জিতে যান৷

এক বছর পর ফের আমেঠিতে পালাবদল৷ ১৯৯৯ সালে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে নামেন সোনিয়া৷ স্বামীর কেন্দ্র আমেঠি থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে সাংসদ হন৷ পরে ২০০৪ সালে এই কেন্দ্রটি তিনি রাহুলকে ছেড়ে দেন৷ নিজে চলে যান রায়বেরিলিতে৷ ওদিকে ২০০৪ সাল থেকে লাগাতার আমেঠি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন রাহুল৷ কিন্তু ২০১৯এ ঘটল ছন্দপতন৷