লখনউ: আমেঠি ছিল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর পরিবারের মত৷ সেই পরিবার হারিয়ে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা অনুভব করছেন তিনি৷ এমনই মত উত্তরপ্রদেশ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজ বব্বরের৷ তিনি বলেন আমেঠি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে৷ কিন্তু তিনি নিজে কখনও মুখ ফেরাননি৷ আমেঠির পাশে সব সময় রয়েছেন রাহুল৷

বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানির কাছে প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান কংগ্রেস সভাপতি৷ পরে সাংবাদিক সম্মেলনে স্মৃতির উদ্দেশ্যে শুধু বলেন, আমেঠির খেয়াল রাখবেন৷ সেই সূত্র ধরে রাজ বব্বর বলেন আমেঠির জন্য এত কিছু করেছেন রাহুল৷ কিন্তু মানুষের মন তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে৷ এই হার রাহুলের কাছে পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছেদের মত৷

আরও পড়ুন : উনি কোনও প্রতিশ্রুতি পালন করেন না, কেজরিকে তোপ মনোজের

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির মতে ওয়ানাড়ের সাংসদ হলেও, আমেঠি রাহুল গান্ধীর হৃদয়ে বাস করে৷ তাই আমেঠিকে কখনও নিজের লোকসভা কেন্দ্র হিসেবে দেখেননি তিনি৷ রাজ বব্বরের মতে আমেঠি রাহুলের পরিবার৷ লোকসভা নির্বাচনের কিছু আগেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচত করা হয়৷ কিন্তু সেই অর্থে ভোটবাক্সে তার প্রভাব পড়েনি৷

তবে প্রিয়াঙ্কার ব্যর্থতা মানতে চাননি রাজ বব্বর৷ তিনি বলেন প্রিয়াঙ্কা নিজের কাজ ঠিকই করেছেন৷ প্রচুর পরিশ্রম করেছেন৷ কিন্তু দলের কর্মী, স্থানীয় নেতারা, প্রার্থীরা সেই পরিশ্রমের ফল পাননি৷ সেটা প্রিয়াঙ্কার ব্যর্থতা নয়৷ স্থানীয় নেতারা নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন৷

এর আগেও কংগ্রেসের এক নেতা বলেছিলেন আমেঠি পুনরুদ্ধারে ফের ঝাঁপাবেন রাহুল গান্ধী৷ আমেঠি এবার তাদের মতামত দিয়েছে৷ ফল কংগ্রেসের বিপক্ষে গিয়েছে৷ কিন্তু রাহুল গান্ধী দমবার পাত্র নন৷ আমেঠি ছেড়ে তিনি কোথাও যাবেন না৷ তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল আমেঠির উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন৷ এবং আগামী দিনেও করবেন৷ ২০২৪ সালে তিনি ফের এই কেন্দ্র থেকে লড়ে জিতে দেখাবেন৷’’

আরও পড়ুন : কর্মীদের শাড়ি-ধুতি পরে অফিসে আসার নির্দেশ তামিল সরকারের

পরিসংখ্যান বলছে ১৯৬৭ সালের পর এই নিয়ে তিনবার আমেঠি গান্ধী পরিবারের হাতছাড়া হয়েছে৷ ১৯৬৭তে আমেঠিতে জয়ের স্বাদ পায় কংগ্রেস৷ তার দশবছর পর ১৯৭৭ সালে সঞ্জয় গান্ধী জনতা দলের কাছে এই আসনে হেরে যান৷ পরে ১৯৮০ সালে তিনি এই কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন৷ ১৯৮১ সালে বিমান দুর্ঘটনায় সঞ্জয়ের মৃত্যু হলে ভাই রাজীব এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়ান৷ উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জেতেন৷ তারপর ১৯৮৪ ও ১৯৮৯ সালে এই কেন্দ্র রাজীব গান্ধী ধরে রাখেন৷

১৯৯১ সালে ফের বিপর্যয় নেমে আসে গান্ধী পরিবারে৷ মৃত্যু হয় রাজীব গান্ধীর৷ তাঁর মৃত্যুর পর আমেঠি কেন্দ্রটি খালি হয়৷ সেই কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ক্যাপ্টেন সতীশ শর্মা৷ এরপর ১৯৯৮ সালে ফের আমেঠি কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়৷ ওই বছর বিজেপির সঞ্জয় সিং এখানে জিতে যান৷

এক বছর পর ফের আমেঠিতে পালাবদল৷ ১৯৯৯ সালে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে নামেন সোনিয়া৷ স্বামীর কেন্দ্র আমেঠি থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে সাংসদ হন৷ পরে ২০০৪ সালে এই কেন্দ্রটি তিনি রাহুলকে ছেড়ে দেন৷ নিজে চলে যান রায়বেরিলিতে৷ ওদিকে ২০০৪ সাল থেকে লাগাতার আমেঠি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন রাহুল৷