নয়াদিল্লি: নাটকের যবনিকা পতন কবে, ঠিক বোঝা যাচ্ছে না৷ একবার প্রকাশ্যে আসছে একরকম খবর, পরক্ষণেই বদলে যাচ্ছে হাওয়া৷ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর পদত্যাগ ঘিরে এখন নানা গল্প ঘোরাঘুরি করছে রাজধানীর অলিন্দে৷ দুদিন আগেই জানা গিয়েছিল পদত্যাগ করছেন না রাগা৷ তাঁর মানভঞ্জন করে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা জানিয়ে দিয়েছিলেন পদে বহাল থাকছেন তিনি৷

এই তথ্য প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শীলা দীক্ষিতের বক্তব্য সামনে আসে৷ রাহুলের পদত্যাগ আটকাতে তিনি নাকি ধরণায় বসবেন৷ সব মিলিয়ে জটিল অঙ্ক চলছে গান্ধী বাসভবনে৷ কংগ্রেস সূত্র বলছে পদত্যাগ করতে অনড় রাহুল গান্ধী৷ কারণ তিনি চান লোকসভা নির্বাচনের যাবতীয় ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে সরে যেতে৷

তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে একেবারেই সহমত নন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা৷ জানা গিয়েছে রাহুল নাকি তাঁর জায়গায় কোনও দলিত নেতাকে দলীয় সভাপতির পদে বসাতে চাইছেন৷ পিছিয়ে পড়া শ্রেণী থেকে উঠে আসা কোনও নেতাই কংগ্রেসের এই বেহাল অবস্থা সামলাতে পারবে বলে মত তাঁর৷ তবে সেটা চাইছেন না দলের অন্যান্য নেতারা৷

আরও পড়ুন : Modi 2.0: শপথ অনুষ্ঠানের আগে শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানালেন নমো

শুধু দলীয় নেতারাই নন, কংগ্রেসের শরিক দল যেমন আরজেডির লালুপ্রসাদ যাদব, ডিএমকের এমকে স্ট্যালিন, ও জেডিএসের এইচ ডি কুমারাস্বামী পর্যন্ত রাহুলকে পদত্যাগ করতে নিষেধ করছেন৷ তবে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরতে চাইছেন না বর্তমান কংগ্রেস সভাপতি৷

এদিকে, রাহুলকে আটকাতে মরিয়া দলের নেতাদের একাংশ তাই এবার ধর্ণায় বসতে চলেছেন৷ রাহুল যদি সিদ্ধান্ত বদল না করেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তাঁর বাড়ির সামনে দলবল নিয়ে হত্যে দিয়ে বসে পড়বেন শীলা দীক্ষিত৷

আরও পড়ুন : ঠাকরে পরিবারের ইতিহাস ভেঙে এবার ভোটে লড়বেন আদিত্য

তিনবারের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত মনে করেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাহুলই পারেন দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে৷ অতীতেও কংগ্রেস এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল৷ কিন্তু প্রতিবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷ উদাহরণ হিসাবে ১৯৭৭ সালের ঘটনা টেনে আনেন শীলা দীক্ষিত৷ জানান, ১৯৭৭ সালের লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের চরম বিপর্যয় হয়েছিল৷ কিন্তু আড়াই বছরের মাথায় ইন্দিরার নেতৃত্বে দল ঘুরে দাঁড়ায়৷ তারপর বহু বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকে৷

দলের ভরাডুবির পর নেতাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছেন রাহুল৷ যা বলার সবাই প্রিয়াঙ্কাকে জানাচ্ছেন৷ আসলে রাহুল দলের প্রবীণ নেতাদের একাংশের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ৷ সেই ক্ষোভ মিটিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল হবে কিনা, সেদিকে আপাতত তাকিয়ে কংগ্রেসের সাধারণ সমর্থকরা৷