স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: জোট এখন অতীত৷ বাংলায় ‘একলা লড়াই’ করছে কংগ্রেস৷ তাই রেয়াত না করেই ২০১৬-এর জোটসঙ্গী বামেদের সমালোচনায় রাহুল গান্ধী৷ দলের সভাপতির এহেন আত্রমণে মনে জ্বালা জুড়ানোর হাঁসি প্রদেশ নেতৃত্বের মুখে৷

এরাজ্যে অন্তত তৃণমূলের সঙ্গে জোট নয়৷ প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল সোমেন মিত্র, অধীর চৌধুরীরা৷ বিজেপির তো প্রশ্নই ওঠে না৷ পড়ে ছিল বামেরা৷ ক্ষয়িষ্ণু হলেও এরাজ্যে তাদের ভোট রয়েছে এখনও৷ ফলে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধীতায় বামেদেরকেই সঙ্গী করতে আগ্রহী ছিল হাত শিবির৷ এক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞাও মন্দ নয়৷

কিন্তু গোল বাঁধে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ আসন দুটি নিয়ে৷ জেতা আসন হওয়ায় তা ছাড়তে চায়নি সিপিএম৷ কংগ্রেস সভাপতির হস্তক্ষেপে সমস্যা মিটলেও জট থেকে গিয়েছিল পুরুলিয়া, বারাসতের মতো আসনগুলির ক্ষেত্রে৷ ফলে শেষ পর্যন্ত বামেরা এক তরফা প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় গোঁসা হয় বিধানভবনের নেতাদের৷ পালটা তারাও প্রার্থী তালিকা প্রকাষ করে দেয়৷ দলের সম্মানের প্রশ্নে তাতেই সিলমোহর দেয় হাইকম্যান্ড৷

আরও পড়ুন: প্রচার শুরু হয়নি, তাও বিজেপিকে নিয়ে চর্চা চলছে: দিলীপ ঘোষ

এরপর এই প্রথম রাজ্য সফরে রাহুল গান্ধী৷ দলের অপমানের বাদলা নিতে বামেদের কী আক্রমণ করবেন তিনি? নাকি জাতীয় রাজনীতির কথা মাথায় রেখে চুপ থাকবেন? তাই ছিল প্রদেশ নেতাদের কাছে বড় বিষয়৷ কারণ বামেদের কোণটাসা করতে পারা তাদের কাছে ‘সম্মানের লড়াই’৷

মালদহে এদিন কংগ্রেস সভাপতি পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানার শাসনকে তীব্র আক্রমণ করেন৷ তুলে ধরেন বিরোধীদের উপর ৩৪ বছরের অত্যাচারের কথা৷ এক সারিতে ফেলেন রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন শাসক দলকে৷ বলেন, ‘‘বাম জমানায় যেভাবে কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে তা অন্য কোথাউ হয়নি৷ বাংলার অধঃপতনের শুরু বাম শাসন থেকেই৷’’ এই সরেই তিনি যুক্ত করেন বামেদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷

রাহুল এলেন৷ প্রদেশ নেতৃত্বের মন রেখে এক যোগে আক্রমণ শানালেন সিপিএম ও মমতার তৃণমূলকে৷ বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, রাহুল যতটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন তার তুলনায় নরম ছিলেন বামেদের প্রতি৷ কারণ কী জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ?