কলকাতা: জাগুয়ার মামলায় অভিযুক্ত রাঘিব পারভেজের জামিন৷ বুধবার তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট৷ হাইকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ দুই মাসের জন্য রাঘিবের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছেন৷

২০১৯ সালের ১৫ অগস্ট গভীর রাতে পার্ক স্ট্রিটে একটি গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে৷ দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই গাড়ির চাকায় পিষে মৃত্যু হয় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের৷ মৃতরা হল ফরহানা ইসলাম তানিয়া এবং কাজী মোহাম্মদ মঈনুল আলম৷ যদিও সেই সময় কিয়স্কের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৩ জন৷ দূর্ঘটনার পরই গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায় জাগুয়ারের চালক৷

এই ঘটনায় ৩ অভিযুক্ত হল রাঘিব পারভেজ, আরসালান পারভেজ ও মহম্মদ হামজার৷ এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। ঘটনার ৩৪ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাঘিব পারভেজ। বুধবার তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

প্রসঙ্গত,গাড়ী দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুর ঘটনায় চালক হিসেবে পুলিশ প্রথমে যাকে গ্রেফতার করেছিল,পরে জানা যায় দুর্ঘটনার রাতে সে গাড়িতেই ছিল না৷ সেদিন রাতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাগুয়ার গাড়িটি চালাচ্ছিল তার দাদা রাঘিব পারভেজ৷ পুলিশ তাকে পরে গ্রেফতার করে৷ ঘটনার ৫ দিনের মাথায় একথা জানায় লালবাজার৷

আরসালান গাড়ী কাণ্ডে প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করে ৷ পরে তদন্তের ভার নিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ৷ থ্রি ডি লেজার স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করে দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশের রাস্তা স্ক্যান করা হয়েছে৷

অত্যাধুনিক গাড়ি জাগুয়ারের নির্মাতা সংস্থা এসে ইভেন্ট ডেটা রেকর্ড সংগ্রহ করেছে৷ তদন্তকারী আধিকারিকরা লাউডন স্ট্রিট ও থিয়েটার রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রায় ৪০-৪৫টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন৷ শুধু রাস্তার সিসিটিভিই নয়, খতিয়ে দেখা হয়েছে বাড়ির সিসিটিভির ফুটেজও৷

লালবাজারে জয়েন্ট সিপি ক্রাইম মুরলীধর শর্মা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিল, দুর্ঘটনার রাতে দুর্ঘনাগ্রস্ত জাগুয়ার গাড়িতে আরসালান পারভেজ ছিল না, সেদিনের ওই কাণ্ড ঘটিয়েছে তার দাদা রাঘিব পারভেজ৷ দুর্ঘটনার পরে তিনি বিমানে চড়ে দুবাই পালিয়ে যায়৷ তাকে সাহায্য করেছিল তার এক মামা৷ রাঘিব শহরে ফিরতেই বেনিয়াপুকুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়৷ গ্রেফতার করা হয়েছিল তার মামা মহম্মদ হামজাকেও৷

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছিল, দুর্ঘটনার সময় জাগুয়ার গাড়িটির এয়ার ব্যাগ খোলে যায়৷ তখন ওই ব্যাগ চালকের মুখের ঘষা লেগে মুখে ‘সিলিকন বাইট’-এর চিহ্ন হওয়ার কথা৷ কিন্তু ধৃত আরসালান পারভেজের মুখে তা ছিল না৷ এতেই তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়৷ শুরু হয় দ্বিতীয় ব্যাক্তির খোঁজ৷

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও জাগুয়ার সংস্থার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় কে শেষ চালিয়েছে৷ তাঁর নাম এবং মোবাইল নম্বরের হদিস পায় পুলিশ৷ তারপরই আরসালান পারভেজের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা৷ তাতেই জানা যায় দুর্ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে জাগুয়ার গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন রাঘিব পারভেজ৷

জাগুয়ার দুর্ঘটনায় আরসালান পারভেজ ও তার মামা মহম্মদ হামজাকে আগেই জামিন দিয়েছে আদালত।