নয়াদিল্লি : রাফাল জেট মামলার রিট পিটিশন নিয়ে বৃহস্পতিবার কী রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট, তা নিয়েই তুঙ্গে ছিল জল্পনা। ২০১৬ সালে ২৩শে ডিসেম্বর ফরাসি বিমানসংস্থা ড্যাসল্টের থেকে ৩৬টি রাফাল জেট যুদ্ধবিমানের বরাত দেয় মোদী সরকার। প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকার এই বরাত নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন বিরোধীরা। এই বরাতের বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে সুপ্রিমকোর্টের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিল কংগ্রেস-সহ বহু বিরোধী দল।

গত বছর ডিসেম্বরে রাফাল জেট সংক্রান্ত মামলা খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আর বৃহস্পতিবার সেই একই রায় বহাল রাখল মুখ্য বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এস কে কউল, এবং বিচারপতি কে এম জোসেফের বেঞ্চ।

এই মামলার আর্জি খারিজ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘আমাদের এই কথা স্মরণে রাখা উচিত যে সরকারের সঙ্গে ফরাসি সংস্থার বরাত রয়েছে। আর এর আগেও বহুবার এফআইআর আর সিবিআই তদন্ত হয়েছে। এটা নতুন তদন্ত নয়।’ যদিও রাফাল মামলা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন বিচারপতি কে এম জোসেফ। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে তবে তারা তদন্তে এগোতেই পারে।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা, অরুণ শুরি এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের আর্জির ভিত্তিতে এই বিষয়ে চলতি বছরের ১০ মে রায়দানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিনই রাফাল মামলা নিয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী বলেছিলেন, বিশ্বের কোথাও প্রতিরক্ষা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে না। আর প্রতিরক্ষার মত অতি গোপনীয় বিষয়ে যেখানে দেশের সুরক্ষা জড়িয়ে আছে সেক্ষেত্রে কোনও ধরনের তদন্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।

কিন্তু, যশবন্ত সিনহা, অরুণ শুরি-সহ আপিলকারিরা সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের কাছে নালিশ জানিয়ে বলেছিল বরাত পাওয়ার ব্যাপারে বহু বিষয়ই লুকিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র। ফরাসি সংস্থার সঙ্গে ভারতের চুক্তি করার জন্য যে তিন সদস্যের দল গঠিত হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ আনেন বিরোধীরা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল রাফালে তদন্তের প্রয়োজন নেই সেই রায়কেই পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়। দাখিল হয় রিট পিটিশনও। এ দিনের রায়ে সেই আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ে রাফাল নিয়ে স্বস্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার।