অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপাল সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেন, রাফাল চুক্তি সংক্রান্ত ফাইল চুরি হয়েছে। আর তারই জন্য তিনি সর্বোচ্চ আদালতে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’-র দিকে৷ কারণ কেন্দ্র দাবি করেছে, চুরি যাওয়া ‘গোপন ফাইল’ প্রকাশ করে সরকারি গোপনীয়তা আইন বা ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে এই ‘দ্য হিন্দু’ সংবাদপত্রটি এবং ওই সংবাদপত্র গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এন রাম।

কিন্তু জবাবে এন রাম স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, কোন রকম চাপেও তিনি জানাবেন না কোন সূত্র থেকে ওই নথি পাওয়া গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে তাঁরা কোনও রকম নথি চুরি করেননি৷ তারা তা পেয়েছেন একেবারে গোপন সূত্র থেকে এবং পৃথিবীর কোনও শক্তি তাঁদের বাধ্য করতে পারবে না এই সূত্রের কথা জানানোর জন্য৷ তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে তদন্তকারী সংবাদ সংগ্রহের নিমিত্তে এই তথ্য তাঁরা পেয়েছেন যা সংসদে এবং তার বাইরে বারবার দাবির সত্ত্বেও আটকে রাখা হয়েছিল।

গণতন্ত্রের স্বার্থে এন রাম দাবি করেন ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩ তুলে দেওয়া উচিত৷ তাঁর বক্তব্য এটি ঔপনিবেশিক আইন যা গণতন্ত্রবিরোধী এবং যা খুব কমই স্বাধীন ভারতের প্রকাশনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর মতে এটা শুধুমাত্র ‘দ্য হিন্দু’ বলে নয় দেশের অন্য স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের যারাই রাফায়েল নিয়ে কিছু করবে তাদের উপরই চাপবে৷ এই সরকারের আমলে তা সংবাদ মাধ্যম ভয় পাচ্ছে কিন্তু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আরও কিছু করতে চায়৷

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এন রামকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ঘটনার উদাহরণ টানতেও দেখা গিয়েছে ৷ তিনি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন- পেন্টাগন পেপার্স, ইউকিলিক্স ফাঁস করা ওয়াটারগেট ইত্যাদি যেখানে সরকারের গোপন নথিপত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল নথিপত্র চুরি গিয়েছে৷

তবে এভাবে কেন্দ্রে পক্ষ থেকে ‘দ্য হিন্দু’-র বিরুদ্ধে আচরণ দেখে সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের। তাঁদের অভিমত, সরকার বুঝিয়ে দিচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোনও তথ্য ফাঁস হলেই আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প