মেলবোর্ন: কোয়ার্টার ফাইনাল অবধি দুর্বার গতিতে ছুটছিল তাঁর বিজয়রথ। কিন্তু শেষ আটে এসে ছন্দপতন। অস্ট্রিয়ার ডমিনিক থিয়েমের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে বিদায় নিলেন রাফায়েল নাদাল। ২০০৯ পর দ্বিতীয়বার রড লেভার এরিনায় খেতাব জয় আরও একবার অধরাই রইল বিশ্বের এক নম্বরের। ওপেন এরার প্রথম টেনিস প্লেয়ার হিসেবে প্রত্যেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে অন্তত দু’বার শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হল স্প্যানিশ মায়েস্ত্রোর। ম্যাচের ফল থিয়েমের পক্ষে ৭-৬ (৭-৩), ৭-৬ (৭-৪), ৬-৪, ৭-৬ (৮-৬)।

এর আগে গ্র্যান্ড স্ল্যামের মঞ্চে পাঁচ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলেন নাদাল-থিয়েম। যার মধ্যে রয়েছে দু’টি ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনাল। প্রত্যেকবারই অস্ট্রিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দিয়েছেন ১৯টি গ্র্যান্ডস্লামের মালিক। দ্বিতীয়বার মেলবোর্নে খেতাব জয়ের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে নাদালের কাছে হাতছানি ছিল ফেডেরারকে ছোঁয়ার। চার ম্যাচে মাত্র একটি সেট খোয়ানো নাদাল প্রত্যাশিতভাবে হট ফেভারিট হয়েই এদিন নেমেছিলেন কোয়ার্টারের লড়াইয়ে। তবে শুরু থেকেই থিয়েমের কড়া প্রতিদ্বন্দ্বীতা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় নাদালকে।

গত ম্যাচগুলোতে কোর্টে সাবলীল নাদাল প্রথম দু’টি সেট হেরে এদিন পিছিয়ে পড়েন শেষ আটের লড়াইয়ে। যদিও উত্তেজক টাইব্রেকারে গড়ায় দু’টি সেট। কিন্তু দু’টিতেই নার্ভ ধরে রেখে বিশ্বের এক নম্বরের বিরুদ্ধে বাজিমাত করে যান বিশ্বের পাঁচ নম্বর ডিমিনিক থিয়েম। এর আগে কখনও মেলবোর্ন পার্কে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে পারেননি অস্ট্রিয়ার এই টেনিস প্লেয়ার। কিন্তু নাদালকে হারিয়ে যেভাবে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিতে পা রাখলেন তিনি, তাতে খেতাবের শেষ দু’ই ল্যাপে থিয়েম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সহজে জমি ছাড়বেন বলে মনে হয় না।

প্রথম দুই সেট হেরে পিছিয়ে পড়া নাদাল ম্যাচে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন তৃতীয় সেট জিতে। ৬-৪ তৃতীয় সেট জিতে অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে ম্যাচে ফিরে আসার বার্তা দেন স্প্যানিয়ার্ড। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে চতুর্থ সেটও টাইব্রেকারে জিতে নেন থিয়েম। প্রমাণ করেন অভিজ্ঞতা অনেক সময় তারুণ্যের কাছেও মাথা নোয়ায়। চতুর্থ সেটে টাইব্রেকারে ৮-৬ ব্যবধানে বাজিমাত করে দ্বিতীয় কোনও মেজরের সেমিতে পৌঁছলেন থিয়েম। এর আগে দু’বার ফরাসি ওপেনে এই ধাপ পেরিয়েছিলেন তিনি।

গোটা ম্যাচে এদিন ফেভারিট নাদালের সামনে ভয়ডরহীন টেনিস উপহার দেন থিয়েম। সারা ম্যাচে তাঁর ৬৫টি উইনারই সে কথা বলে দেয়। চতুর্থ সেটে ৪-৫ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় দু’টি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে খেলা টাইব্রেকারে নিয়ে যান নাদাল। মনে করা হচ্ছিল মঙ্গলবার ফেডেরারের মতোই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে টেক্কা দেবেন নাদাল। কিন্তু না, নাদাল অনুরাগীদের ভুল প্রমাণ করে কোনও মেজরের মঞ্চে প্রথমবার স্প্যানিশ কিংবদন্তিকে ধরাশায়ী করতে সক্ষম হন থিয়েম।