ঢাকা: জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে নিষিদ্ধ হল আল্লাহর দল৷ এই সংগঠনকে দেশের পক্ষে বিপদজনক বলেই মনে করছে শেখ হাসিনার সরকার৷ আরও ৭টি উগ্র ইসলামিক সংগঠনকে দ্রুত নিষিদ্ধ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে৷

বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নোটিশে বলা হয়েছে, সরকার মনে করে, ‘আল্লার দল‘ নামে জঙ্গি সংগঠনটির ঘোষিত কার্যক্রম দেশের শান্তিশৃঙ্খলা পরিপন্থী। ইতিমধ্যে সংগঠনটির কার্যক্রম জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হওয়ায় বাংলাদেশে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে৷

সংগঠনটির লক্ষ্য সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে কথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠা৷ এই লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে আল্লাহর দল৷ সেই সংগঠন যে নিষিদ্ধ হচ্ছে৷ আগেই এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এই নিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা ও উগ্র ইসলামি সংগঠন হিসাবে আটটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হল।

নোটিশে বলা হয়েছে, “সরকারের কাছে এ মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, ‘আল্লাহর দল’ নামক জঙ্গি দল/সংগঠনটির ঘোষিত কার্যক্রম দেশের শান্তি শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ইতোমধ্যে দল/সংগঠনটির কার্যক্রম জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হওয়ায় বাংলাদেশে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।”

জানা গিয়েছে, ১৯৯৫ সালে মতিন মেহেদী ওরফে মুমিনুল ইসলাম আল্লাহর দল সংগঠনটি গড়ে তোলে। ২০০৪ সালের শেষের দিকে সংগঠনটি জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে মতিন মেহেদী জেএমবি ছেড়ে আবার আল্লাহর দল নিয়ে সক্রিয় হয়৷ তবে সম্প্রতি হুজি-বি জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা চোখে পড়েছে বাংলাদেশে৷ জঙ্গি দমন শাখা সিটিটিসি ও ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন(ব়্যাব) জানিয়েছে,

নিষিদ্ধ ঘোষণার তালিকায় রয়েছে, ২০১৭ সালে আনসার আল ইসলাম৷ নিষিদ্ধ করে সরকার। ২০০৩ সালে শাহাদত-ই-আল হিকমা৷ ২০০৫ সালের হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ বা হুজি-বি৷ ২০০৫ সালের জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ও জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)৷ ২০০৯ সালে হিযবুত তাহরী৷ আর ২০১৫ সালে আনসারুল্লাহ বাংলাকে টিম বা এবিটি নিষিদ্ধ করা হয়। গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, এবিটি পরে নাম পরিবর্তন করে৷ তাদের নতুন নাম আনসার আল ইসলাম৷