সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rakhaldas Bandyopadhyay) মতো ইনিও এক উপেক্ষিত বাঙালি। মহেঞ্জোদারো আবিষ্কার করেও কৃতিত্ব মেলেনি। তেমনি অবস্থা হয়েছে এই বাঙালিরও। সব কিছু ঠিকঠাক হলে এভারেস্টের (Everest) নাম হওয়া উচিত ছিল মাউন্ট শিকদার। হয়নি। পরাধীন দেশে কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়া যে খুবই সহজ। তা  হয়েছিল।

১৮৫২ সাল। স্থান দেরাদুন (Dehradun)। বাঙালি(bengali) ভদ্রলোক ব্যাপক উত্তেজিত। দাবী, তিনি খুঁজে পেয়েছেন বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ। শুনে চমকে গেলেন সার্ভেয়র সাহেব। মারাত্মক কথা, নেটিভের কথা হলেও হেলাফেলা করলেন না। কারণ সবাই তাঁর দক্ষতাকে সমীহই করতেন। গণিত জ্ঞান মারাত্মক।

তখনও পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখর কাঞ্চনজঙ্ঘা। সাহেবরা বিশ্বাস করতেন কাঞ্চনজঙ্ঘার থেকেও উঁচু শৃঙ্গ আছে হিমালয় পর্বতমালায় । কিন্তু কোনটা তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাধানাথ নামের ওই নেটিভ নজর রেখেছিল সার্ভে রেকর্ডের Pick XV শৃঙ্গের উপরে। তিব্বতে এর নাম চোমুলুংমা, নেপালে সাগরমাতা।

রাধানাথের জন্ম ১৮১৩-এ, কলকাতার জোড়াসাঁকোয় । বাবার নাম তিতুরাম শিকদার। অভাবের সংসার ছিল। পড়তেন খ্রিস্টান মিশনারীদের স্কুলে। জলপানিতেই চলেছে পড়াশোনার খরচ ।

গণিতে তুখোড় ছিলেন রাধানাথ। সুযোগ পেয়েছিলেন হিন্দু কলেজে পড়ার। স্ফেরিক্যাল ট্রিগোনোমেট্রিতে বিশেষ দক্ষ রাধানাথ। মুগ্ধ হয়েছিলেন সাহেব শিক্ষক টাইটলার। ভারতের তত্‍কালীন সার্ভেয়র জেনারেল জর্জ এভারেস্ট গণিতে তুখড় তরুণ খুঁজছিলেন। টাইটলারের সুপারিশ করেন রাধানাথ শিকদারের নাম। ১৮৩১ সাল, ‘Great Trigonometric Survey’-তে যোগ দিলেন রাধানাথ। বয়স তখন মেরেকেটে ১৯। মাসিক বেতন ত্রিশ টাকা।

এভারেস্ট সাহেবও মুগ্ধ হয়ে যান রাধানাথের পারদর্শিতায়।। মাপামাপির কাজ আবার ভাল লাগছিল না রাধনাথের। ডেপুটি কালেক্টর হতে চান। এভারেস্ট হতে দেননি। সাহেব মাইনে বাড়িয়ে দেন। রয়ে যান রাধনাথ।

অবসর নেন জর্জ এভারেস্ট। নতুন সার্ভেয়র আসেন। নাম অ্যান্ড্রু ওয়া। তাঁর অধীনে কাজ করছেন রাধানাথ। এই করতে করতেই ১৮৫২। রাধানাথ অ্যান্ড্রু সাহেবকে জানান, Pick XV-ই বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ। তবে জন্য রাধানাথ অনুরোধ করেছিলেন এই আবিষ্কার গোপন রাখতে হবে। আরও একটু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। ১৮৫৬ সালে সরকারি স্বীকৃতি মেলে যে রাধানাথের আবিষ্কার সঠিক। ১৮৬০ সালে ঘোষিত হয় উচ্চতম শৃঙ্গ Pick XV। স্বীকৃতির দেয় ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে ।

ব্রিটিশ নিয়ম ছিল কোনও শৃঙ্গের নামকরণে গুরুত্ব দিতে হবে স্থানীয় আবেগকে। অ্যান্ড্রু তা মানেননি। রাধানাথকেও বঞ্চিত করলেন। নামকরণ করে দেন তাঁর প্রাক্তন বসের নামে । বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ চিহ্নিত হল মাউন্ট এভারেস্ট নামে। পরাধীন ভারত। আড়ালে চলে গেল বাঙালির আবিষ্কার।

জানা যায়, ১৮৫৯ সাল পর্যন্ত পিক ফিফটিনের ওই সার্ভে ম্যানুয়ালে নাম ছিল রাধানাথ শিকদারের। কৃতিত্ব ছিল তাঁরই। ১৮৭৫, ত্রয়োদশ সংস্করণে আর ছিল না রাধনাথের নাম। অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন রাধানাথ। বিচারে জরিমানাও করেছিল ব্রিটিশ সরকার। ১৭ই মে ১৮৭০, মারা যান উপেক্ষিত বাঙালি রাধানাথ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.