প্রতীকি ছবি

বিশেষ প্রতিবেদন: পাক সেনার মিথ্যা আবার ফাঁস হয়ে গেল৷ পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের ৮০ কিলোমিটার ভিতরে বালাকোটে ভারতের ‘এয়ারস্ট্রাইক’ নাকি ভুয়ো৷ দেশে-বিদেশের মিডিয়াকে ২৬ ফেব্রুয়ারির পর থেকে লাগাতার বোঝাতে চেষ্টা করেই চলেছে পাক সেনা এবং সেনা-পরিচালিত ইমরান খান সরকার৷

একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যাধুনিক ব়্যাডার ব্যবহার করে ধ্বংসের আগে এবং পরের চিত্র তুলে রাখা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রকে খবরের ভিত্তি করে ওই সংবাদপত্র লিখেছে, সার বা সিন্থেটিক অ্যাপারচার ব়্যাডারের চিত্রই ভারতের এয়ারস্ট্রাইকের অন্যতম সেরা প্রমাণ৷ তবে স্যাটেলাইট ইমেজ বা উপগ্রহ চিত্রও ব্যবহার করা যেত৷ কিন্তু এয়ারস্ট্রাইকের পর ওই এলাকায় আকাশে মেঘের ঘনঘটার জন্য পরিষ্কার ছবি পাওয়া যায়নি৷

এই সেই টেরর ক্যাম্প

১. বালাকোটের জাভা থেকে আরও পূর্বে ৬ একর জমিতে জইশ-ই-মহম্মদের পরিচালিত ‘তালিম-উল-কোরান’ মাদ্রাসা৷ ওই মাদ্রাসাই সারা পাকিস্তানে জইশের সব থেকে বড় ট্রেনিং ক্যাম্প৷ বিস্ফোরণের সময় ওই মাদ্রাসায় কতজন ছিল তা বলা কঠিন৷ কারণ আকাশ থেকে ভূমিতে ওই আক্রমণ চালানো হয়৷ ভারতীয় বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, আক্রমণে বিরাট পরিমাণ ( A Very large number of …) জৈশ জঙ্গি, ট্রেনার, কমান্ডার এবং আত্মঘাতি হামলার ফিদাইন জঙ্গিদের নিকেশ করা হয়েছে৷ বালাকোটের এই মাদ্রাসা মৌলানা ইউসুফ আজহার ওরফে উস্তাদ ঘউড়ি চালাতো৷ ইউসুফ আজহার হলেন মাসুদ আজহারের শ্যালক৷ এই ‘অসামরিক আগাম আক্রমণে’র লক্ষ ছিল শুধু জৈশ-ই-মহম্মদ ক্যাম্প ধ্বংস করার৷ সাধারণ মানুষকে লক্ষবস্তু করা হয়নি৷

২. ভারতের হাতে কী রয়েছে?

ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থাগুলির হতে রয়েছে চমকপ্রদ তথ্য৷ সার বা সিন্থেটিক অ্যাপারচার ব়্যাডারের ওই চিত্রের সাহায্যে পরিষ্কার ছবি দেখানো হয়েছে৷ ৬ একর জমিতে জৈশ-ই-মহম্মদের পরিচালিত তালিম-উল-কোরান মাদ্রাসার চারটি বিল্ডিং ইজরায়েলি এস-২০০০ প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন (পিজিএম) বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে ওই বোম ছোঁড়া হয়েছে৷ বালাকোটের জাভায় যে টিলা রয়েছে তার থেকে আরও পূর্বদিকে তালিম-উল-কোরান মাদ্রাসা৷ তবে জাভার টিলা থেকে দূরত্ব মাত্র ১০০ মিটার৷

মাসুদ আজহারের দুই আত্মীয়

৩. ঘটনার দিন কেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে মাদ্রাসায় ঢুকতে দেয়নি পাক সংবাদমাধ্যম?

পাক সরকার স্বীকার করেছে যে বালাকোটে সীমান্ত পেরিয়ে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে ভারত৷ কিন্তু কোনও ক্ষতি হয়নি৷ মাটিতে গর্ত হয়েছে৷ বিশিষ্ট পাক সাংবাদিক হামিদ মীর জাভার টিলার দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন, এক স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছে৷ একটি কাক মারা গিয়েছে৷ কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আবহাওয়ার অজুহাতে কোনও সাংবাদিককেই ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়নি পাক সেনা৷ ডিজি-আইএসপিআর জেনারেল আসিফ গফুর নিজের ট্যুইটারে গর্তের ছবি প্রকাশ করেন৷ রাতে পাকিস্তানের লোকাল মিডিয়াকে জাভায় টিলার উপর নিয়ে যায় পাক সেনা৷ কিন্তু তালিম-উল-কোরান মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার সাহস করেনি৷ ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থাগুলির বক্তব্য, ইংরাজি অক্ষর ‘এল (L)’ এর মতো প্রতিকৃতির একটি বিল্ডিংয়ে মৌলানা ইউসুফ আজহার থাকতো, একটি দোতলা বাড়িতে জঙ্গিবাদের ট্রেনিং নেওয়া নতুন ছাত্ররা থাকত৷ অন্য একটি বাড়িতে থাকতো সেই নতুন জঙ্গিরা যারা ফাইনাল ট্রেনিংয়ে রয়েছে৷ বায়ুসেনা তিনটি বাড়িকেই গুড়িয়ে দিয়েছে৷

৪. বায়ুসেনা চারটি বাড়িকে গুড়িয়ে দিলেও প্রশ্ন উঠেছে কতজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে?

ভারতীয় এজেন্সিগুলির বক্তব্য, স্বাভাবিক সময় বালাকোটের ওই জঙ্গিশিবিরে ৪০০-৫০০ জঙ্গি থাকে৷ জৈশের সব থেকে বড় জঙ্গিক্যাম্প বালাকোট৷ সেক্ষেত্রে কতজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে তা গুনে বলা বায়ুসেনার পক্ষে সম্ভব নয়৷ স্থানীয় এজেন্টদের অভাব ছিল৷ সাধারণ দিনেই ওই ক্যাম্পে জনতার প্রবেশ নিষেধ৷ এয়ারস্ট্রাইকের পর পাক সেনা ওই জায়গা ঘিরে ফেলে৷ মাদ্রাসায় কাউকে আসতে দেওয়া হয়নি৷ সরিয়ে ফেলা হয়েছে লাশ৷ সাংবাদিকদের জাবা এলাকায় ঘুরিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা হয় – ওই জায়গায় কোনও ট্রেনিং ক্যাম্প ছিল না৷

৫. ইজরায়েলি এস-২০০০ পিজিএম বোমের কী অদ্ভূত ক্ষমতা রয়েছে?

ব়্যাডারে এই বোমের অস্তিত্ব ধারা পড়ে না৷ ট্রার্গেটের ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে এই বোম ছোঁড়া যায়৷ জ্যামার দিয়েো এই বোমকে আটকানো যায়না৷ মেঘের আড়াল থেকে মেঘনাদের মতো কাজ করতে পারে এই বোম৷ এস-২০০০ পিজিএম প্রথম ছাদ দিয়ে বিল্ডিংয়ে ঢোকে এবং কিছুক্ষণ পরে বিস্ফোরণ ঘটে৷ বাড়ির ছাদ কতটা মোটা বা কী কাঁচামাল দিয়ে ওই ছাদ তৈরি হয়েছে তা জেনে বোমের সফটওয়ারকে প্রোগ্রামিং করতে হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনাকে৷ ডিজি-আইএসপিআর জেনারেল আসিফ গফুর নিজের ট্যুইটারে গর্তের ছবি প্রকাশ করেন৷ কিন্তু ভারতীয় এজেন্সিগুলির বক্তব্য, ইজরায়েলি এস-২০০০ পিজিএম বোম মাটিতে পড়লে তা মাটি ফুঁড়ে নিচে ঢুকে যাবে৷ মাটির তলায় বিস্ফোরণ হবে৷ বিশাল স্তুপ তৈরি হবে৷ যে গর্তগুলি দেখানো হচ্ছে, যে গাছগুলি উপড়ে গিয়েছে বা পাখিগুলি মারা গিয়েছে বোমা বিস্ফোরণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাত্র৷

৬. টালির চালের জঙ্গি ক্যাম্প

সার বা সিন্থেটিক অ্যাপারচার ব়্যাডারের চিত্রতে বোঝা গিয়েছে, বাড়িগুলিতে টালির চাল দেওয়া ছিল৷ বিস্ফোরণের দু’দিন পরে দেখা গিয়েছে বিস্ফোরণস্থলে আবার টালির চাল৷ অর্থ পরিষ্কার, টালির চাল দিয়ে াবার নতুন করে জঙ্গি ছাউনি তৈরি করছে পাক সেনা৷

৭. ভারতীয় বায়ুসেনা যখন বালাকোটে তখন ১০০ কিমি দূরে ছিল পাক বায়ুসেনা

ব়্যাডারের চিত্রতে পরিষ্কার বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইকের সময় ১০০ কিলোমিটার দূরে ছিল পাক বায়ুসেনার বিমান৷ পাক বায়ুসেনার মনে হয়েছিল ভারতীয় যুদ্ধের বিমান পাক-পঞ্জাবের কোনও শহরের দিকে যাচ্ছে৷ এদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে যায়৷ কাজ সেরে নিশ্চিন্তে ফিরে আসে ভারতীয় বায়ুসেনা৷

৮. মোদী সরকারের সদিচ্ছা

একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তবেই ব়্যাডারের চিত্র প্রকাশিত হবে জনসমক্ষে৷ তবে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে আইএসআইয়ের সুরক্ষিত আস্তানায় বসে মৌলানা মাসুদ আজহার ভালোই বুঝতে পারছেন কী হয়েছে৷ ভিডিও বার্তায় যতই বলুক জইশের কিছুই হয়নি, নিজের ভাই এবং শ্যালককে ফেরাতে পারবে মাসুদ?