স্টাফ রিপোর্টার, ব্যারাকপুরে: ফের মধুচক্রের হদিশ মিলল রাজ্যে। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে ড্রিমল্যান্ড হোটেলে খোঁজ মিলল মধুচক্রের আসর। ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যৌথ তল্লাশি চালায় জগদ্দল থানার পুলিশ ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এর গোয়েন্দারা। এরপরই জগদ্দল থানার অন্তর্গত ব্যারাকপুর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের পাশে কাউগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ড্রিমল্যান্ড নামের ওই হোটেলে হানা দিয়ে মধুচক্রের আসর থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছে তিন জন পুরুষ, তিন মহিলা সহ হোটেলের ম্যানেজার এবং আরও দুই কর্মী। জগদ্দল থানার পুলিশের নির্দেশে হোটেলটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই হোটেলে দীর্ঘদিন ধরেই মধুচক্রের আসর বসছিল। পুলিশকে খবর দিতেই সেই আসরে হানা দেয় পুলিশ। ব্যারাকপুর কল্যাণী হাইওয়ের পাশে আরও বেশ কয়েকটা হোটেল রয়েছে, সেই হোটেলগুলিতেও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে কি না, সে সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছে পুলিশ।

ব্যারাকপুরে এই ঘটনা অবশ্য প্রথমবার নয়। এর আগেই এভাবে মধুচক্রের আসরের হদিশ পাওয়া গিয়েচিল। গত বছর এই অভিযোগ উঠেছিল খোদ ব্যারাকপুরের লাট বাগানে পুলিশ আবাসনে। ২৩/১ নম্বর ফ্ল্যাটের মধ্যে থেকে আবাসিক পুলিশ কর্মীদের হাতে ধরা পড়ে গিয়েচিল এক তরুণ ও তরুণী। আরও দু’জন ছিল, যারা পুলিশকে দেখে পালিয়ে যায়।

ওই ২৩/১ নম্বর ফ্ল্যাটে বছর খানেক ধরেই চলছিল সেই অসাধু চক্র। সুমিত সাহা নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ছিল অভিযোগ, যে নাকি এক পুলিশকর্মীর পালিত ছেলে। রাতের দিকে প্রায়ই বিভিন্ন বয়সী মহিলা, পুরুষকে জড় করে রাতভর জুয়া ও মদের আসর বসাত সে। আবাসনের নিরাপত্তার কোন সুব্যাবস্থা নেই বলেই এই কারবার চলেছে দীর্ঘ দিন ধরে বলে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ঐ আবাসনের আবাসিক পুলিশ কর্মীরা।

গত সেপ্টেম্বরেই কলকাতা শহরে পার্লারের আড়ালে চলা মধুচক্রের হদিশ পায় পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নিউ আলিপুর ও কালীঘাটের দু’টি ‘ফ্যামিলি স্পা’-তে আচমকা হানা দেওয়া হয়। নিউ আলিপুরের সাহাপুর কলোনির একটি বহুতলের নিচে ‘কবিতা স্পা ফ্যামিলি সেলুন’-এর আড়ালে চলছিল দেহ ব্যবসা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যেখানে গ্রাহক সেজে যান লালবাজারের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের এক অফিসার। এক খদ্দের ও এক যৌনকর্মীকে অশালীন অবস্থায় পাওয়া যায়। গ্রেফতার করা হয় এক দালাল ও পার্লারের মালকিন এক মহিলাকেও।

কালীঘাটের সদানন্দ রোডেও একই কায়দায় চলছিল ওই বেআইনি কারবার। যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছিল। যে-বহুতলের নীচে ওই স্পা খোলা হয়েছিল, সেখানে দু’টি ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য সংস্থার অফিস থাকলেও কারও বসবাস নেই। আর সেই সুযোগটাকেই দেহ ব্যবসার কেন্দ্র তৈরির কাজে লাগানো হচ্ছিল। স্থানীয় এক জনের কথায়, ‘প্রথমে একটি পার্লারের হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল। পরে সেখানে হঠাৎ নির্মাণকাজ শুরু হয়। হোর্ডিং নামিয়ে দেওয়া হয়। ফ্যামিলি স্পা তৈরি হচ্ছে বলে প্রচার করা হয়। স্পা বা পার্লার বলা হলেও প্রচুর বহিরাগতের আনাগোনা শুরু হয়। যার মধ্যে বেশির ভাগই ভিন রাজ্য থেকে আসা লোকজন।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I