মেদিনীপুর:  শনি, রবিবার কিংবা লম্বা ছুটি মানেই দিঘা, শঙ্করপুর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমান বাংলার এই সমস্ত সমুদ্র সৈকত শহরগুলিতে। যতদিন বাড়ছে তত ভিড় বাড়ছে এই সমস্ত জায়গাগুলিতে। রোজগারের আশায় তৈরি হচ্ছে একের পর এক হোটেল। ভিড়ের সুযোগে একদিকে যেমন হোটেল মালিকরাও ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন তেমনই ক্রমশ বাড়ছে দেহ ব্যবসাও।

শঙ্করপুরের একটি হোটেলে হানা দিয়ে এমনই একটি মধুচক্রের আসর ভাঙল পুলিশ। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ওই হোটেলে রমরমিয়ে চলছিল মধুচক্র। গোপন সূত্রে সেখানে হানা দিয়ে বড়সড় চক্র ফাঁস করল পুলিশ। হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে হোটেল মালিক সহ পাঁচজনকে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চার নাবালিকাকেও। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের জোর করে দেহ ব্যবসার কাজে নামানো হয়েছিল।

শঙ্করপুরের হোটেলে আইন-প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র। এমন খবর আসে পুলিশের কাছে। সেই মতো একেবারে গোপন বাংলার এই সমুদ্র সৈকতে হঠাত করেই হানা দেয়। অভিযোগ, রাজ্য ও ভিনরাজ্যের নাবালিকাদের দিয়ে দীর্ঘদিন ওই হোটেলে চলত দেহব্যবসা ৷ এমনকী, দেহ ব্যবসায় আপত্তি জানালে নাবালিকাদের উপর অত্যাচার চালানো হত বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আসে পুলিশের কাছে। আর সেই অভিযোগ আসার পরেই অতর্কিতে এই অভিযান চালায় পুলিশ। একেবারে সেখানে মধুচক্রের আসর ভাঙে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ওই হোটেলে মহিলাদের একপ্রকার আটকেই রাখা হত। প্রয়োজন মতো মন্দারমণি, তাজপুর, দিঘার বিভিন্ন হোটেলে এই মহিলাদের পাঠানো হত। এর জন্যে এজেন্ট ছিল। এজেন্টের মাধ্যমেই বুকিং হত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দফায় দফায় ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ওই সমস্ত মহিলাদেরও। জেরা করে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এছাড়াও দিঘা, মন্দারমনির সমস্ত হোটেলে এই সমস্ত কাজ চলছে সেখানেও অভিযান চালানো হবে বলে পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে।