পাটনা: দলের ভরাডুবির জন্য প্রশান্ত কিশোরকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন আরজেডি নেত্রী তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী। গত চার বছরে তাঁর পরামর্শে অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আরজেডি নেতৃত্ব। কিন্তু লাভের লাভ তেমন কিছুই হয়নি বলে দাবি করেছেন লালু পত্নী।

প্রশান্ত কিশর বর্তমানে জনতা দল ইউনাইটেড-এর পদাধিকারী ব্যক্তি। নীতিশ কুমার তাঁকে ক্যাবিনেটেও ঠাঁই দিয়েছিলেন। রাবড়ি দেবীর দাবি, প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে লাভ হয়েছে কেবল নীতিশের। পরোক্ষে যার সুবিধা পেয়েছে এনডিএ জোট বা বিজেপি। কারণ বিজেপিকে রুখতে যুযুধান দুই পক্ষ আরজেডি এবং জেডিইউ জোট গড়লেও পরে তা ভেস্তে যায় এবং এনডিএ শিবিরে নাম লেখান নীতিশ।

রাবড়িদেবী জানিয়েছেন যে প্রশান্ত কিশোরই প্রথমে নীতিশ কুমারের সঙ্গে জোট গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল। দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করার কথা বলছিল। বামেদের উপরে আস্থা ছিল না, আর সেই কারণেই এক প্রকার বাধ্য হয়েই নীতিশের সঙ্গে লালু প্রসাদ জোট গঠনে রাজি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রাবড়িও দেবী।

লালু প্রসাদের একাধিক বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে প্রশান্ত কুমার রাজনৈতিক কথা বলতে গিয়েছিলেন। সেই সকল বিষয়ে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানেন বলে দাবি করেছেন রাবড়ি দেবী। সব কিছু প্রথমে ঠিক চললেও পরে জটিলতা বাড়ে এবং নীতিশ কুমার এনডিএ জোটে ফিরে যান। প্রশান্ত কুমার এই সকল বিষয় এখন অস্বীকার করলে সেটা মিথ্যা হবে বলে জানিয়েছেন রাবড়ি দেবী।

২০১৪ সালে এই প্রশান্ত কিশোরের রণকৌশলেই লড়াই করেছিলেন মোদী। সাফল্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। প্রথমে কংগ্রেস তাঁকে অগ্রাহ্য করেছিল। তা নিয়ে এখনও আফসোস করে হাত শিবির।

সেই ব্র্যান্ড মোদীর কারিগর সেই প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধলেন তৃণমূল নেত্রী। আজ বৃহস্পতিবার নবান্নে আসেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি চুক্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চুক্তি মোতাবেক আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলের কি রণকৌশল হবে তা তিনিই ঠিক করে দেবেন। চুক্তি মোতাবেক আগামী একমাস পর থেকে এই বিষয়ে প্রশান্ত এবং তাঁর টিম কাজ শুরু করে দেবে বলে জানা গিয়েছে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV