সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ম্যারিকা, আমরিকা, আমেরিকা, ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা। সোজা কথায় মার্কিন মুলুক। সে দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি ভারত ভূমিতে এসে স্বামী বিবেকানন্দের নামোচ্চারণ করতে গিয়ে যা বলেছেন তাতে সমালোচনা ও চূড়ান্ত হাসির খোরাক হয়েছেন ইন্টারনেট দুনিয়ায়৷

কিন্তু আজ থেকে ১০৭ বছর আগে সে দেশের বিখ্যাত সংবাদপত্র যে কাণ্ডটি করেছিল তাও বেশ হাস্যকর। নোবেল পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথকে ববিন্দ্রনাথ ছেপেছিল। সেই ট্রেন্ড কি ধরে রাখলেন ট্রাম্প? ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে মিলছে রবীন্দ্রনাথের নামকে ভুল উচ্চারণে লেখার কথা৷

রবীন্দ্রনাথ কীভাবে হয়েছিলেন বেমালুম ববিন্দ্রনাথ ? রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর। সেই প্রথম কোনও অশ্বেতাঙ্গ এই পুরস্কার পেলেন। অথচ ১৯১২ সালেই কবি ‘আমরিকা’ ভ্রমণ করে এসেছেন। সে খবর কোথাও লেখা হয়নি। রবীন্দ্রনাথের পরিচিতি ছিল না সে দেশে।

কিন্তু যখন কোনও ব্যক্তি নোবেল পাচ্ছেন তখন তার গুরুত্ব নতুন করে বলার প্রয়োজন হয় না। বিশ্বের সর্বত্র বন্দিত না হলেও খবরের পাতাও তার নামটুকু ঠিক ছাপা যে কোনও সংবাদ সংস্থার প্রথম দায়িত্ব। তাও যখন সংস্থার নাম নিউইয়র্ক টাইমস। মহা ভুলটিই করেছিল সংস্থা। পুরো প্রতিবেদন জুড়ে রবি কে ববি বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন ওঠে একটি ভুলে মানা যায়, কিন্তু নোবেল জয়ীর নাম এমনভাবে সারা সংবাদ প্রতিবেদনে ভুল। মানা কঠিন। তবু বাস্তব এটাই। যেমনটা ট্রাম্প একের পর এক উচ্চারণ ভুল করে গেলেন ঠিক তেমনই। হেড লাইনে লেখা হয়েছিল ‘NOBEL PRIZE GIVEN TO A HINDU POET’, তারপরেই উপশিরোনামে ছিল সেই মহাভুল। সেখানে লেখা হয়েছিল ‘This year’s Literature Award Conferred on Babindranath Tagre of Bengal’ বাংলায় যার অর্থ এই বছরের সাহিত্যে পুরস্কার প্রদত্ত হয়েছে বাংলার ববীন্দ্রনাথকে। রবি যে কখন ববি হয়ে গেলেন ধরতে পারা যায়নি।

মূল খবরে লেখা হয়েছিল, ‘অদ্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হয়েছে যা পেয়েছেন ব্রিটিশ ভারতীয় কবি ববীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই প্রথমবার এই পুরস্কার শ্বেতাঙ্গ ছাড়া কোনও ব্যক্তি পেলেন। ঠাকুর পরিবার বাংলা (বেঙ্গল) প্রদেশের অধিবাসী। এই পরিবারের অনেক সদস্যই সাহিত্য এবং কলায় অনুরক্ত, এবং কেউ কেউ ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে কর্মরত। রাজা স্যার সৌরীন্দ্র মোহন ঠাকুর ইউনিভারসিটি অব ফিলাডেলফিয়া থেকে ১৮৭৫ সালে সংগীতে ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন।

লন্ডনের একটি পত্রিকার (নাম উল্লেখ করা হয়নি) সূত্রে বলা হয়েছে, কিছুদিন আগে কবির কিছু কবিতা অনূদিত হয়েছে যা ইউরোপে তৈরি করেছে উন্মাদনা…..’ ২৩ নভেম্বর, ১৯১৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমস বিশ্বকবিকে নিয়ে দ্বিতীয় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রবন্ধের মাঝখানে রবিঠাকুরের প্রতিকৃতির একটি স্কেচ ব্যবহার করা হয় এবং সন্নিবেশিত করা হয় বেশকিছু কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। এবার রবিঠাকুরের নামের বানানে কোনও ভুল ছিল না।