স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : বিকেল থেকে সন্ধ্যার মাঝে কলকাতা ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস। সঙ্গে বইতে পারে ঝড়ো হাওয়াও। বুধবার সন্ধ্যা থেকে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দিনের শেষে কিছুই হয়নি। তবে তুলনামূলক সামান্য গতির হাওয়া বয়েছে গিয়েছে প্রায় এক ঘণ্টা সময় ধরে। তার জেরে শহরে ক্রমশ চড়তে থাকা পারদ বৃহস্পতিবার কিছুটা কমেছে। আজ ঝড় বৃষ্টি শেষ পর্যন্ত হলে চৈত্রের শেষে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। বিগত কয়েকদিন এই তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। যেমন বুধবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশি ছিল। সকাল ৬টাতেই তাপমাত্রা ছিল ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার, শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার তা ঠাণ্ডা হাওয়ায় কমে হয়েছে ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। তবে এখনও বাতাসে আর্দ্রতার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্নে ব্যাপক ফারাক থাকছে। বুধবারই যেমন শহরে সর্বোচ্চ আর্দ্রতার পরিমাণ ৯০ শতাংশ, সর্বনিম্ন ১৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার তা সামান্য কমে হয়েছে সর্বোচ্চ ৭২, সর্বনিম্ন ৩২ শতাংশ। এই ফারাকের জেরেই শুকনো হাওয়া দিচ্ছে সকালের দিকে।

আজ সকালেও একই পরিস্থিতি জারি রয়েছ। বেলায় তাপমাত্রা বাড়লে স্বাভাবিক নিয়মে বাড়ছে আর্দ্রতা। ফলে শহর ও শহরতলিতে অনুভূত হচ্ছে সকালে শুষ্ক, দুপুরে আর্দ্র আবহাওয়া। যা শহরের স্বাভাবিক গরমের আভাস নয়। এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে বৈশাখ মাস অর্থাৎ বসন্তের শেষ।

এমন সময়ে এমন আবহাওয়া কেন? হাওয়া অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে সাগরে কোনও সিস্টেম নেই। ফলে স্থানীয়ভাবে আর্দ্র বায়ু তৈরি হচ্ছে। সমুদ্রের দিক থেকে আসছে না আর্দ্র হাওয়া ফলে। এমন আবহাওয়া থাকছে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে। আপাতত এই স্থানীয় মেঘ এবং আর্দ্রতার উপরেই নির্ভর করছে ঝড় বৃষ্টি হওয়া। কতটা মেঘ সক্রিয় হতে পারে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির উপরেই নির্ভর করছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

বৃহস্পতিবার দমদমে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকাল সকালে ছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সল্টলেকে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বুধবার ছিল ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।