ব্রাসেলস: ঘরে বাইরে চাপে পাকিস্তান৷ একদিকে আর্থিক চরম দুর্দশায় বিপর্যস্ত দেশের অভ্যন্তরীন পরিস্থিতি৷ অন্যদিকে, জঙ্গিদের সাহায্য করায় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কড়া হুমকির মুখে ইসলামাবাদ৷ এই পরিস্থিতিতে ভারতকে ঢাল করেই বিশ্বমঞ্চে ভালো সাজার চেষ্টায় পাকিস্তান৷

দু’দিনের সফরে ব্রাসেলসে রয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি৷ সেখানেই তিনি সাক্ষাৎ করেন NATO-র সেক্রেটরি জেনারেল জিনস স্টলটেনবার্গের সঙ্গে৷ তাঁর কাছেই ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ জানান কুরেশি৷ তাঁর ব্যাখ্যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি পেরাতে আগ্রহী নয় ভারত৷ ইসলামাবাদের উদ্যোগ সত্ত্বেও নয়াদিল্লি শান্তি আলোচনায় রাজি হচ্ছে না৷

ভারতের মসনদে ফের নরেন্দ্র মোগদী সরকার৷ ভোটের ফলের পর পরই মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি আলোচনা চেয়ে ভারতের বিদেশ সচিবকে চিঠিও দেন কুরেশি৷ ইমরান খানও একাধিকবার সেই আবেদন করেছেন৷ কিন্তু, নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত বিরোধী জঙ্গিদের মদত দেওয়া বন্ধ করুক পাকিস্তান৷ তারপরই যেকোনও আলোচনা সম্ভব৷ না হলে, তার কোনও মূল্যই নেই৷

পাক বিদেশমন্ত্রকে দেওয়া আলোচনার সেই চিঠিকেই এদিন ব্রাসেলসে NATO-র সেক্রেটরির কাছে পেশ করেন কুরেশি৷ পুরো ঘটনাকেই একপাক্ষিক বলে বোঝান হয়৷ অন্যদিকে, ঘর গোছাতে NATO-র সঙ্গে দীর্ঘকালীন সম্পর্কের কথাও বলা হয় পাকিস্তানের তরফে৷

প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয় পাকিস্তানের৷ তালিবান দমনে মার্কিন ও NATO-র সাহায্যের কথা তুলে ধরেন কুরেশি৷ পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পোক্ত করতে NATO-র সঙ্গে স্ট্র্যাটিজিক এনগেজমেন্ট ডায়লগে রয়েছে ইসলামাবাদ৷ এতে সুবিধায় পায় পাকিস্তান৷ তবে সেদেশে সামরিক শাসন জারি হওয়ায় বেশ কয়েকবার সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা৷

উরি থেকে পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা৷ ক্রমাগত জঙ্গি মদতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভারত৷ তাদের জঙ্গি মদতের কার্যকলাপ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি৷ আন্কর্জাতিকস্তরে সমালোচিত ইমরান প্রশাসন৷ জঙ্গি দমনের উপযুক্ত ও নিরবিচ্ছিন্ন প্রমাণ ছাড়া ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সান্তি বৈঠক করবে না বলে জানিয়ে দেয়৷ মোদী প্রশাসনের কূটনৈতিক পদক্ষেপে চাপে পড়ে পাকিস্তান৷ তাই বিভিন্ন আন্তর্জাতিত সংস্থার কদর ফিরে পেতে এবার ভারতকেই ছাল হিসাবে ব্যবহার করছে ইমরান খান, শাহ মেহমুদ কুরেশিরা৷