ইসলামাবাদ: নিজের দেশেই বিতর্কে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একদিকে যখন তিনি ‘নয়া পাকিস্তান’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তখন মুশারফ জমানার গোয়েন্দা প্রধানকে নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে বিতর্ক বাড়ালেন তিনি। তাঁর নয়া পাকিস্তানের স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাকিস্তানের বিরোধীরাই।

সম্প্রতি ইমরানের মন্ত্রিসভায় হয়েছে রদবদল। নতুন আভ্যন্তরীণ মন্ত্রীর পদে এসেছেন প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান ব্রিগেডিয়ার ইজাজ শাহ। পাকিস্তানের মিলিটারি শাসনের শেষ শাসক পারভেজ মোশারফের ঘনিষ্ঠ ছিলে ইজাজ শাহ। আর প্রাক্তন সেনাপ্রধান মোশারফের সঙ্গে জঙ্গিদের ঘনিষ্ঠতার কথাও জানত সবাই। তাই ইজাজ শাহকে সরকারে জায়গা দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তানে বিরোধী দল পিপিপি।

বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজাজ শাহ বলেন, দীর্ঘদিন আগেই সেনাবাহিনী ছেড়েছেন তিনি। এক সাধারণ নাগরিক হিসেবেই যোগ দিয়েছিলেন নির্বাচনে। এই ইস্যুতে অবশ্য এখনও কোনও মন্তব্য করেননি ইমরান খান।

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো খুন হওয়ার কিছুদিন আগে পারভেজ মোশারফকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তাঁর মৃত্যু হলে কাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে, সেরকম চারটি নাম লেখা ছিল ওই চিঠিতে। সেখানেই ছিল এই ইজাজ শাহের নামও।

২০০৭-এ বেনজির ভুট্টো হত্যায় আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ তালিবানি নেতার নাম উঠে এলেও, পাকিস্তানের অনুমান ছল, জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোয়েন্দারাই ছিল বেনজির হত্যার কারিগর।

সেই বেনজির ভুট্টোর ছেলে, বর্তমানে পিপিপি-র চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো ইমরান খানকে উদ্দেশ্য পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ”আপনি কী বিশ্বকে বার্তা দিতে চান যে আমাদের মন্ত্রিসভায় জঙ্গি আছে। এটা হতে পারে না।”

২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের আইবি-র ডিজি ছিলেন ইজাজ আহমেদ শাহ। পারভেজ মোশারফের আমলে আইএসআইয়ের সঙ্গেও তার সুসম্পর্কের কথা শোনা যায়। কিছুদিন পঞ্জাব প্রদেশে আইএসআইয়ের ডিরেক্টরও ছিলেন তিনি। পরে আইবি প্রধান হন।

এমনকি অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও এই ইজাজ শাহের নাম উঠে এসেছিল। ২০১১-তে আইএসআই-এর প্রাক্তন ডিজি জেনারেল জিয়াউদ্দিন বাট বলেছিলেন, ইজাজ শাহই নাকি অ্যাবোটাবাদে লাদেনকে সুরক্ষিত রেখেছিলেন। যদিও পরে শাহ মানহানির মামলা করায় ওই বক্তব্য অস্বীকার করেন জিয়াউদ্দিন বাট।