বেজিং: গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের হাত থেকে রেহাই নেই মাউন্ট এভারেস্টেরও। উষ্ণ হতে শুরু করেছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। সংকুচিত হচ্ছে এভারেস্টের হিমবাহ। চিনের গবেষণায় উঠে এল এমনই উদ্বেগজনক খবর।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঠেকাতে বিশেষ পদক্ষেপ করার অঙ্গীকার করেছে ভারত সহ সারা বিশ্ব। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পৃথিবীর উষ্ণতা স্থির রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই চেষ্টা, অঙ্গীকার কতদূর সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেননা ইতিমধ্যে অনেকটাই গরম হয়ে উঠেছে মাউন্ট এভারেস্ট। সংকুচিত হতে শুরু করেছে এভারেস্টের হিমবাহ।

এরকম আর কিছুদিন চললে যে কোনও সময় নদী বা লেক হয়ে নেমে আসতে পারে এভারেস্টের হিমবাহ। চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস, হিউমান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এই তথ্য যে অমূলক নয়, সেকথা মাউন্ট কোমোলাংমা স্নো লিওপার্ড কনজারভেশন সেন্টারও স্বীকার করে নিয়েছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক-দুই বা দশ বছরে নয়, বিগত ৫০ বছর ধরে উত্তপ্ত হচ্ছে মাউন্ট এভারেস্ট। ১৯৯০ সালের পর থেকে এভারেস্ট অত্যাধিক হারে উত্তপ্ত হয়েছে বলে গবেষণায় জানা গিয়েছে। এর ফলে যত দিন যাচ্ছে, ততই এভারেস্টের হিমবাহ সংকুচিত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন এবং মানুষের অধ্যাধুনিক জীবনযাত্রার জন্যই এভারেস্ট উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে বলে চিনের গবেষণায় জানা গিয়েছে। আর কিছুদিন এরকম চলতে থাকলে এভারেস্টের হিমবাহ গলে গিয়ে নদী হয়ে নিচে নেমে আসবে।

ইতিমধ্যে হিমালয়ের অনেকাংশেরই হিমবাহ গলতে শুরু করেছে। বন্যা, ধসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে চলেছে। এবার ৮,৮৪৮ মিটার উঁচুতে এভারেস্টের হিমবাহ যদি গলতে শুরু করে, তাহলে চিন, তিব্বত, ভারত সহ সারা পৃথিবীতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে এবং মোট স্থলভাগের অনেকটাই যে জলের নিচে চলে যাবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাই সভ্যতা বজায় রাখতে এভারেস্টকে ঠাণ্ডা করা জরুরি বলে দাবি জানিয়েছে চাইনিজ অ্যাকাডেমি। শুধু দাবি জানানোই নয়, এভারেস্টকে ঠাণ্ডা করার উপায়ও বাতলেছে এই সংস্থা।

অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এভারেস্টকে ঠাণ্ডা করার একমাত্র উপায় বৃক্ষরোপণ। এভারেস্ট সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণে বৃক্ষ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে চাইনিজ সংস্থা। এছাড়া বিশ্ব উষ্ণায়ন রুখতে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রনেতারা যে সমস্ত পদক্ষেপ করছে, সেগুলো তো রয়েছেই। তবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং এভারেস্টের উষ্ণায়ন ঠেকাতে কেবল রাষ্ট্রনেতারা পদক্ষেপ করলেই চলবে না, বিশ্বের সমস্ত মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।