নয়াদিল্লি: কাজের চাপে শেষ হয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত জীবন। ২০১৯-এ দাঁড়িয়ে এই গল্প নতুন নয়। ৯ ঘণ্টার অফিসের পরও পরিবার ভুলে বসে থাকতে হয় ল্যাপটপের সামনে। ইমেলের জবাব না দিলেই শোকজের মুখোমুখি হতে হয়। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে বিল পেশ হল লোকসভায়।

বুধবার লোকসভায় এই বিল পেশ করেছেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। বিলটি প্রাইভেট মেম্বারস বিল। এই বিলটিকে বলা হচ্ছে, রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল। বিলটি পাস হলে অফিস আওয়ার্সের বাইরে কাজের জনভ বাধ্য থাকবেন না কর্মীরা। এই ধরনের আইন পাশ রয়েছে ফ্রান্সের সুপ্রিম কোর্টে। এছাড়াও এই আইন বলবত হয়েছে নিউইয়র্কে। জার্মানিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিলটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং শ্রমমন্ত্রককে নিয়ে এমপ্লয়ি ওয়েলফেয়ার অথরিটি গঠন করতে হবে। বিলটিতে বলা হয়েছে, ১০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে, এমন সংস্থায় নির্দিষ্ট সময় পর পর কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। যেখানে কর্মীদের নিজেদের দাবি থাকবে। সংস্থার কর্মীদের নিয়ে এমপ্লয়ি ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন করতে হবে।

রাইট টু ডিসকানেক্ট বিলে বলা হয়েছে, ছুটির পর অফিসের কাজ সংক্রান্ত কোনও ফোনকল কিংবা ইমেল গেলে তার জবাব দিতে বাধ্য নন ওই কর্মী। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কোনও সংস্থা কর্মীকে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে না। কর্মী নির্দেশ না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা যাবে না। যদি নির্দিষ্ট শর্তের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়, তাহলে সেই কর্মী ওভারটাইমের দাবিদার হবেন।

এই বিল পাশ হলে কর্মীদের ব্যক্তিগত ও কর্ম জীবনের মধ্যে ব্যবধান ও চাপ কমাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রস্তাবক সুপ্রিয়া সুলে। শুধু ছটির পর নয়, ছুটির দিনগুলিতেও অফিসের ফোন কিংবা ইমেল উপেক্ষা করার অধিকারের কথাও বলা হয়েছে এই বিলে।