নয়াদিল্লি: লক ডাউনে কর্মীদের বেতন কাটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তাদের অক্ষমতা জানাতে আদালতে ব্যালেন্স শিট পেশ করা দরকার।‌‌ সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে এমন আবেদন জানানো হয়েছে। গত ২৯মার্চ সরকার নির্দেশিকা জারি করেছিল, কর্মীদের বিশেষত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের এই লকডাউনের সময় আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ছে তাই সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে সংস্থাগুলিকে তাদের বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ১৮মে সেই নির্দেশিকা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ২৯ মার্চের নির্দেশিকার স্বপক্ষে যুক্তি শানাতে এবার এমন আর্জি জানালো কেন্দ্র।

প্রথমে ২১ দিনের লকডাউন করা হবে বলে ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীকালে তা পর্যালোচনা করে দফায় দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছিল। পাশাপাশি সরকারও তার পুরনো অবস্থান থেকে নানা বিষয় সরে আসতে থাকে। আগে কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছিল লকডাউনের সময় যেন কর্মী ছাঁটাই এবং বেতন কাটা না হয়। তেমনটা করলে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।

২৯ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যে নির্দেশ জারি করেছিল সেটাই আবার ১৭মে তুলে নেওয়া হয়।‌ ফলে তার পরের দিন থেকে বেসরকারি সংস্থা কর্তৃপক্ষের কর্মী ছাঁটাই অথবা বেতন কাটার ক্ষেত্রে আর কোনও‌ বাধা-নিষেধ থাকল না। প্রসঙ্গত তার আগে অবশ্য কয়েকটি সংস্থা কেন্দ্রীয় ওই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। সে ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি ছিল, সব সংস্থাকে একরকম ভাবা উচিত নয়, তাই কর্মী ছাঁটাই বা বেতন কাটার ক্ষেত্রে এভাবে নির্দেশ জারি করার কোন মানে হয় না।

সরকারের এমন নির্দেশ জোর করে কর চাপানোর সমতুল্য বলেও অভিযোগ তোলা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এমন নির্দেশ জারি করায় সংস্থার বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্থিক অবস্থার উপর যেভাবে চাপ পড়বে তাতে বহু সংস্থা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

এর ফলে শুধু বহু মানুষ কর্মহীন হবে না, অর্থনীতি ঘুরে দারানোর পক্ষেও‌ কঠিন হবে। তারই প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছিল, লকডাউনের সময় কোন সংস্থার কর্মীদের বেতন দিতে না পারলে যেন কেন্দ্র কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা না নেয়। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ওই সময় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিল কেন্দ্রকে। তবে ওই সময় আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে তাদের মতামত জানাতে বলেছিল।

তারই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের কাছে এই বিষয়ে হলফনামা পেশ করে। সেখানে আবেদন জানানো হয়,২৯ মার্চের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে যদি মালিকপক্ষ কর্মীদের বেতন কাটে তাহলে যেন তাদের অক্ষমতার কথা জানিয়ে অডিটেড ব্যালেন্স শিট এবং অ্যাকাউন্টস পেশ করা হয়।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প