ওয়াশিংটন:  নতুন মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুতিনের রাশিয়া! এমনটাই আশঙ্কা করছেন মার্কিন সামরিক পর্যবেক্ষকরা।  একের পর এক মহাকাশে যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে ক্রেমলিন। কিন্তু এগুলিকে পরীক্ষামূলক অস্ত্র হিসাবেই দাবি করছেন মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা।

কসমস-২৪৯১, ২৪৯৯ এবং ২৫০৪ নামের এ তিন কৃত্রিম উপগ্রহকে যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। এগুলি রডনিক যোগাযোগ উপগ্রহের পর্যায়ে পড়ে বলে উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। সাধারণভাবে এ জাতীয় যোগাযোগ উপগ্রহ একত্রে তিনটি করেই কক্ষপথে পাঠানো হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে চতুর্থ উপগ্রহ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

অন্যান্য যোগাযোগ উপগ্রহের মতোই রডনিক উপগ্রহে কোনও ইঞ্জিন বসানো থাকে না।  ফলে এই জাতীয় উপগ্রহকে একবার কক্ষপথে স্থাপন করা হলে তার কক্ষচ্যুতির আর কোনও সুযোগ থাকে না। তবে মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক ডেভিড এক্সের কথায়, পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপিক ক্যামেরার সাহায্যে দেখে মার্কিন পর্যবেক্ষকরা বিস্মিত হয়েছেন যে, রুশ চতুর্থ উপগ্রহটি নিজ অক্ষপথে সামান্য রদবদল ঘটিয়েছে।

এছাড়া গত দেড় বছরে রাশিয়া আকারে ছোট ফ্রিজের মতো আরও দুটি রহস্যময় বস্তু মহাকাশে পাঠিয়েছে। তীব্র গতিসম্পন্ন এই উপগ্রহগুলি অন্যান্য উপগ্রহের বেশ কাছাকাছি যেতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে অন্যান্য উপগ্রহের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা যেমন তারা চালাতে পারবে, প্রয়োজনে সেগুলিকে ধ্বংস বা কবজা করতেও পারবে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা আরও দাবি করছেন, রাশিয়ার এই সব উপগ্রহের ক্ষমতা দেখে এটি পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, এগুলিকে উপগ্রহ-বিধ্বংসী অস্ত্র হিসাবেও ব্যবহার করা সম্ভব।

অবশ্য এ কাজ যে কেবল রাশিয়া এককভাবে করছে তা নয়৷ বরং আমেরিকা, চিন এর মধ্যেই এ জাতীয় পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছে। আর এ সবই করা হয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ রক্ষণাবেক্ষণের নামেই। ঠান্ডা যুদ্ধের জমানায় এই কর্মসূচি প্রথম নেয় আমেরিকা৷পৃথিবীর কক্ষপথে উপগ্রহের আকারে ওয়েপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল পেন্টাগনেরই মস্তিষ্কপ্রসূত৷