স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া : এখানে কৈলাস থেকে আসেন না মা! এখানে ষষ্ঠীতে উমার আগমন হয় ব্যাংক থেকে৷ রীতিমতো পুলিশি প্রহরায়৷ পুজোর সময়ও মোতায়েন থাকে পুলিশ৷ দশমীতে আবার একইভাবে তাঁকে ফিরিয়েও দিয়ে আসা হয় ব্যাংকে৷

অবাক হচ্ছেন! কিন্তু ১৯৬৯ সাল থেকে এটাই রীতি পুরুলিয়ার গড় জয়পুরের রাজবাড়িতে৷ দশমীতে ব্যাংকের লকারে রেখে আসা হয় মা দুর্গাকে৷ আর ষষ্ঠীর দিন সেই লকার থেকেই নিয়ে আসা হয়৷ কারণ, রাজবাড়ির উমা সোনার৷ তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সারা বছর ব্যাংকের লকারে প্রতিমা রাখা হয় বলে জানালেন রাজবাড়ির সদস্য প্রশান্ত নারায়ণ সিংদেও৷

ইতিহাস বলছে, ঔরঙ্গজেবের ভয়ে জয়পুরের উজ্জয়নী থেকে ১৬৬৬ সালে শুরুতে পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে আসেন রাজা জয়সিংহ৷ কিন্তু এখানে এলে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ বাধে খামার মুণ্ডার৷ সেই যুদ্ধে জয়ী হয়ে রাজা জয়সিংহ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন৷ এর পর এলাকার নাম গড় জয়পুর রাখা হয়৷ নামকরণ হয় রাজা জয়সিংহের নামে৷ তখন থেকেই খড়গ দিয়ে মায়ের পুজো শুরু করেন রাজা জয়সিংহ৷ পরে মাটির প্রতিমা তৈরি করে উমার আরাধনা শুরু হয়৷ রাজ পরিবার সূত্রে খবর, রাজা জয়সিংহের বড় ছেলে রাজা কাশীনাথ সিংহ স্বপ্নাদেশে ১৭৭০ সালে সোনার দুর্গা প্রতিমা গড়ান৷ শিল্পী আসেন বেনারস থেকে। ১০৮ টি আকবরী স্বর্ণমুদ্রা ও বহুমুল্য মণিমুক্তা দিয়ে তৈরি হয় সোনার দুর্গাপ্রতিমা। চালচিত্রের জন্য ২ মণ রুপোর টাকা দেন রাজা৷ এর পর থেকে গড় জয়পুর রাজপরিবারে সোনার দুর্গা প্রতিমার পুজো হয়ে আসছে৷ রাজপরিবারের সদস্যদের দাবি, ১৯৬৯ সালে রাজবাড়িতে ডাকাতি হয়৷ ডাকাতের দল অনেককিছু লুঠপাট করলেও নিয়ে যেতে পারেনি সোনার দুর্গাপ্রতিমা৷ তখন জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ব্যাংকের লকার রাখা হয়৷

এর পর থেকে বছরের ৩৬০ দিন সোনার দুর্গা থাকেন ব্যাংকের লকারে৷ ষষ্ঠীর দিন পুলিশি প্রহরায় নিয়ে আসা হয় সোনার প্রতিমা৷ তার পর দশমী পর্যন্ত চলে মায়ের আরাধনা৷ এ ক’দিন কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয় বাড়িতে৷ দশমীতে পুলিশই ব্যাংকের লকারে সোনার প্রতিমা রেখে আসেন৷

এখানে পুজো হয় রাজসিক মতে৷ এখনও চালু রয়েছে পশু-বলির রীতি৷ তবে গড় জয়পুরের রাজবাড়ির ভগ্নদশা৷ তাই জাকজমক এখন কিছুটা কম৷