কলকাতা: আমফানের পর ফের আতঙ্ক বাংলায়৷ আগামী ৫ তারিখ পূর্ণিমা৷ সেই সময় অর্থাৎ ভরা কোটাল। আর সেই কারণে নদীতে জল বেড়ে নতুন করে বিপত্তি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা৷ বুধবার নবান্ন থেকে বাংলার মানুষকে ফের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৬ তারিখ একটা জোয়ার আছে, প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে৷ বাঁধ সারানোর চেষ্টা চলছে৷

পাশাপাশি তিনি আরও জানালেন, সুন্দরবনে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি থানা এলাকায় প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমফানের তান্ডবে সুন্দরবন এলাকায় বাঁধ ভেঙেছে৷ বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়৷ ভেসেছে গিয়েছে অসংখ্য গ্রাম৷ সেই ক্ষত এখনও রয়েছে৷ তৎপরতার সঙ্গে বাঁধ মেরামতির চেষ্টা শুরু হয়েছে৷

এরই মধ্যে ফের বাঁধ ছাপিয়ে জল ঢুকতে পারে৷ এমটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ পঞ্জিকা মতে পূর্ণিমা শুরু হচ্ছে আগামী ৫ জুন শুক্রবার বিকাল ৩টা ১৭ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে, এবং শেষ হবে ৬ জুন শনিবার ভোর ০০ টা ৪৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে৷ একে পূর্ণিমা এরপর আবার ভরা কোটাল। যার ফলে নদীতে বাড়তে পারে জল। আর সেই কারণে মানুষকে সাবধানে থাকার পরামর্শ নবান্নের।

ফাইল ছবি

জানা গিয়েছে, আমফানের তান্ডবে বসিরহাটে প্রায় ৫০০টি জায়গায় বাঁধ নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।মহকুমায় প্রায় ৮৪৮ কিলোমিটার নদীবাঁধ আছে৷ এছাড়া ক্যানিং মহকুমায় প্রায় ৫১ কিলোমিটার নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচ দফতরের হিসেব অনুযায়ী, গোসাবা ব্লকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসন্তী ব্লকে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত। ক্যানিং ১ ব্লকে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার নদীবাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হয়েছে৷ নতুন করে ভরা কোটালে জল বাড়লে এই সমস্ত জায়গায় নতুন করে জল ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প