চন্ডিগড়: ১১০ ঘন্টার লড়াই৷ অনেক চেষ্টার পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল ২ বছরের ছোট্ট শিশুটিকে৷ কিন্তু শেষ রক্ষা হল না৷ চিকিৎসকরা ফতেবীর সিংকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ শোকের ছায়া পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলায়৷

খেলতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার ১৫০ ফুট গভীর কুয়োয় নিচে পড়ে যায় দু’বছরের এক শিশু। এরপর চারদিন কেটে গেলেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। যদিও হাল ছাড়েনি কেউ৷ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশের তরফে জোরকদমে উদ্ধার কাজ চালানো হয়৷

আরও পড়ুন: মোদীর বিমান ব্যবহার করতে পারে আকাশপথ, ছাড়পত্র পাকিস্তানের

দীর্ঘ ১১০ ঘন্টা চেষ্টা শেষে মঙ্গলবার ভোর ৫.১২ নাগাদ দু’বছরের ওই শিশুকে কুয়োর গর্ত থেকে বের করে আনা হয়৷ ওই সময়ই তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সঙ্গীন৷ সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলান্সে করে ফতেবীর সিংকে নিয়ে যাওয়া হয় চন্ডিগড়ের PGIMER হাসপাতালে৷ সেখানেই জানিয়ে দেওয়া হয় সব শেষ৷

ফতেবীরের ঠাকুরদা রোহি সিং বলেন, ‘‘গভীর গর্ত থেকে বার করতে গিয়ে স্ট্রিং ব্যবহার করা হয়েছিল৷ শিশুটির দেহ ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছে৷’’ স্থানীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রদর্শন করেত থাকে৷ তাদের অভিযোগ, প্রশাসন দ্রুত ও উপযুক্ত পদক্ষেপ করলে শিশুটিকে বাঁচানো যেত৷

আরও পড়ুন: সোপিয়ানে সেনার হাতে নিকেশ ২ জঙ্গি

গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটের সময় একমাত্র সন্তান ফতেবীরকে স্থানীয় একটি মাঠে খেলতে নিয়ে গিয়েছিলেন তার মা। সেসময় আচমকা একটি পরিত্যক্ত একটি কুয়োর গর্তে পড়ে যায় সে। অনেক চেষ্টা করেও তাকে তোলা সম্ভব হয়নি৷ কুয়োটির উপরে একটি কাপড় চাপা দেওয়া ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা৷ তার জেরেই নজর এড়িয়ে দুর্ঘটনা ঘটে যায়৷

শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে এনডিআরএফ। শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে কুয়োটির ১২৫ ফুট গভীর পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করে তারা। প্রথমে শিশুটি অচৈতন্য হয়ে পড়ে৷ পরে সিসিটিভির মাধ্যমে জানা যায়, গর্তের মধ্যেই সে নড়াচড়া করছে৷ ফলে আশা বাড়ে তাকে জীবন্ত অবস্থায় গর্ত থেকে তোলার ক্ষেত্রে৷ কিন্তু, সব শেষ৷ শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলেই ঢোলে পড়ল গতকালই দু’বছরের পা দেওয়া ফতেবীর৷