চণ্ডীগড়: পাকিস্তানে সাড়ে চারশো বছরের পুরনো স্মৃতিসৌধে নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়েছে৷ এই ইস্যু তুলে বুধবার সরব হলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং৷ এদিন তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জবাবদিহি চান৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অমরিন্দর সিং আবেদন করেন, যাতে ইমরান খানের কাছে মোদী এই বিষয়ে জবাব তলব করে৷

অমরিন্দর সিংয়ের মতে প্রাচীন এই স্মৃতি সৌধ ভেঙে শিখদের আবেগে আঘাত করা হয়েছে৷ তাই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পাকিস্তান সরকারকে এই বিষয়ে উত্তর দিতে হবে৷ কেন ও কীভাবে এই গুরু নানক প্যালেসে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা, তার জবাব চান মোদী৷ সেই উত্তর দিতে বাধ্য পাকিস্তান৷

আরও পড়ুন : বিজেপি মোদীর অসাধারণ ব্যক্তিত্বকে বাজারজাত করেছেন : থারুর

শতাব্দী প্রাচীন গুরু নানক প্যালেসে হামলার ঘটনায় মোদীর দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন অমরিন্দর৷ একটি চিঠি লিখে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন তিনি৷ উল্লেখ্য গত ২৬শে মে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল শহরে অবস্থিত প্রাচীন এই ঐতিহাসিক সৌধটি হামলার আঘাতে রীতিমত ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ সৌধের জানলা দরজা খুলে নেওয়া হয়৷ ভাঙচুর চালানো হয় সৌধের একাংশে৷

চিঠিতে অমরিন্দর সিং লিখেছেন, যদি পাকিস্তান সরকার ভারত সরকারকে অনুমতি দেয়, তবে ওই স্মৃতি সৌধ নতুন করে বানিয়ে দেবে পঞ্জাব সরকার৷ এই ইস্যু নিয়ে পরে সাংবাদিক বৈঠক করেন অমরিন্দর৷ সেখানে তিনি জানান, সৌধের চারতলা ভবনের দেওয়ালে ভাঙচুর চলেছে৷ এই দেওয়ালে গুরু নানক সহ বেশ কয়েকজন শিখ ধর্মগুরুর ছবি আঁকা ছিল৷

আরও পড়ুন : মুড়ি-মুড়কির মতো দল-বদল করালে তৃণমূলের মতোই পরিণতি হবে বঙ্গ-বিজেপির

এই তথ্য তুলে ধরেছিল সংবাদপত্র দ্য ডনও৷ তারা বলেছিল শুধু ধর্মগুরুরাই নন, ওই দেওয়ালে আঁকা ছিল বেশ কয়েকজন হিন্দু শাসক ও রাজার ছবিও ছিল৷ সেসবই নষ্ট করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল৷ সৌধটির নাম প্যালেস অফ বাবা গুরু নানক৷ সারা বছর ধরে গোটা বিশ্ব থেকে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ দর্শন করতে আসেন এই প্রাচীন সৌধ৷ প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে গুরু নানক প্যালেসটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা যায়৷ লাহোর থেকে ১০০ কিমি দূরত্বে নারয়োল শহরে সৌধটি অবস্থিত৷ সৌধের মধ্যে রয়েছে মোট ১৬টি ঘর৷

স্থানীয়রাই এই ভাঙচুরের পিছনে ছিল বলে মনে করছে প্রশাসন৷ শুধু সৌধে ভাঙচুর নয়, দামি কাঠের দরজা জানলা খুলে নেওয়া হয়৷ বিক্রিও করে দেওয়া হয় চড়া দামে৷ কিন্তু প্রশাসন কেন কোন ব্যবস্থা নেয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ সৌধটি কার সম্পত্তি তা জানা যায়নি৷ তবে প্রশাসন এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল৷