ফাইল ছবি

চণ্ডীগড়: পঞ্জাব সীমান্তে পাক ড্রোনের উপস্থিতিতে সতর্ক হয়েছিল বর্ডার সিকিউরিটি ফোরস। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় অস্ত্রসস্ত্রের উপস্থিতি বেড়ে গিয়েছে যা নজর এড়িয়ে যায়নি। পাক ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি পঞ্জাব সীমান্তে নিরাপত্তা সক্রিয় হয়েছে এই তথ্যের ভিত্তিতে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবার মিলিটারি বেস এবং সেনা ঘাঁটি চত্বরে ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করল পঞ্জাব পুলিশ।

সন্দেহজনক ড্রোনটিকে পাঁচ-ছবার সীমান্তের ওই এলাকায় উড়তে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন নিরাপত্তা বাহিনী। পঞ্জাবের ফিরোজপুরের হুসাইনিওয়ালা সীমান্তে অবস্থিত এইচকে টাওয়ারের কাছে এই পাক ড্রোনকে উড়তে দেখা গিয়েছে বলে খবর। সেনা সূত্রে খবর, পাক ড্রোনটি ভারতীয় সীমানাও পেরোয়। সোমবার রাত ১০টা থেকে ১০.৪০য়ের মধ্যে বার পাঁচেক চোখে পড়ে ড্রোনটিকে।

তবে সেখানেই শেষ নয়, ফের মধ্যরাতে নজরদারি চালানোর সময় ১২.২৫ মিনিটে ড্রোনটিকে উড়তে দেখা যায়। শীর্ষ আধিকারিকদের খবর দেওয়া হয়। ড্রোনটির খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পঞ্জাব পুলিশ ও বিএসএফ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই অভিযান শুরু হয়। বিএসএফ ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা কোনও জঙ্গি সংগঠন নজরদারি চালানোর জন্যই এই ড্রোন পাঠিয়েছে। তবে অবৈধ অস্ত্রের আমদানি বা মাদক চোরাচালানের কাজেও এই ড্রোন ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগেও পঞ্জাবের অমৃতসর সীমান্তে প্রচুর এ কে ৪৭ ও গ্রেনেড ফেলা হয়৷ জানা গিয়েছে পাকিস্তানের ড্রোন মারফত এই অস্ত্রগুলি ফেলা হয়েছে৷ জম্মু কাশ্মীরে পাচারের ছক ছিল অস্ত্রগুলিকে৷ সূত্রের খবর বেশ কিছু স্যাটেলাইট ফোনও উদ্ধার করা হয়৷ ৬, ৭, ৯, ১০ ও ১৫ই সেপ্টেম্বর পাক ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্রগুলি ভারত সীমান্তে ফেলা হয়৷ তারপরেই সতর্কতা জারি হয়৷ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স বা কেজেডএফ গ্রুপের চারজনকে গ্রেফতার করে পঞ্জাব পুলিশ৷

মাত্র সাত মাস আগেই বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক করে জঈশ জঙ্গিদের ঘাঁটিতে আঘাত করেছিল বায়ুসেনা। তবে ফের পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে সেই ঘাঁটিতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে জঙ্গিরা। পুলওয়ামা হামলার পর বালাকোটে জইশের জঙ্গি ঘাঁটি উড়িয়ে দিয়েছিল বায়ুসেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান প্রায় ১০০টি বোমা ফেলে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল জইশের জঙ্গি ঘাঁটি। এই নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা বিশ্ব। পাকিস্তান প্রথম থেকেই সেই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করে আসছে।

পঞ্জাবকে ভারতে ঢোকার জন্য ব্যবহার করছে পাকিস্তান, দীর্ঘদিন থেকেই উঠছিল এই অভিযোগ। বিগত কিছু মাসে একাধিকবার পঞ্জাব খবরে এসেছে অস্ত্রসশ্ত্র বাজেয়াপ্ত করার জন্য। পঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। তবে পঞ্জাব পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে কোন অনুষ্ঠানে, বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না।