ফাইল ছবি

কলকাতা:  ডিএ চাওয়ায় বদলি করা হচ্ছে কর্মী সংগঠনের নেতাদের৷ এমনই অভিযোগ তুলেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্ষকান্ত মিশ্র৷ তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের এমন প্রতিহিংসা পরায়ণ মনোভাবের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷

রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ বকেয়া রয়েছে তার তা দেওয়ার জন্য দাবি করে নবান্নে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। আর তার পরেই কর্মী ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতাকে বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কর্মচারী নেতারা ই মেল মারফত বদলির নির্দেশ হাতে পেয়েছেন। তাদের সোমবারই নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

আর সেই প্রসঙ্গ টেনে সূর্য মিশ্র শুক্রবারের জনসভায় প্রতি হিংসার রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন৷ তাঁর বক্তব্য ‘গোটা দেশ সাড়ে ৪ বছর ধরে যা দেখছে, এরাজ্যে মানুষ গত সাত বছর ধরে সেটাই দেখছেন।’

নবান্নে বিক্ষোভ দেখাতে আসা ১৮জন নেতার মধ্যে আটজনের কাছেই বদলির অর্ডার গিয়েছে। বাকিরাও তেমনটাই আশংকা করছেন। যদিও রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় সিনহার বক্তব্য সরকারের পদক্ষেপে তারা ভীত নন তাই বদলি করলেও পাওনা ডিএ আদায়ের লড়াই থেকে তাঁরা সরে আসবেন না৷

ঠিক হয়েছে সোমবারই সাড়ে ৫টায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা কলকাতার লেনিন মূর্তির সামনে জড়ো হচ্ছেন। ১২ই জুলাই কমিটির আহ্বানে লেনিন মূর্তির সামনে বিক্ষোভ দেখাবেন কর্মচারীরা। পাশাপাশি রাজ্যপালকে গোটা ঘটনা জানিয়ে চিঠিও দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মঙ্গলবারই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে টিফিনের সময় কর্মচারীরা এই হয়রানিমূলক বদলির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখাবেন।

প্রসঙ্গত, ডি এ বকেয়া ৫৬শতাংশ এবং পে কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়েই চলছে৷ ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি কর্মীদের মনে৷ এরই মাঝে গত বৃহস্পতিবার সি সি টিভির নজরদারি এড়িয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে খোদ নবান্নে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতারা। তখন সেখানে একজন মহিলা কর্মচারীসহ ১৮জন সরকারি কর্মচারীকে নবান্ন থেকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়ে হাওড়ার শিবপুর থানায় দিনভর আটক রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়৷