পুনে: কুকুর মানুষের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু৷ আত্মকেন্দ্রীকতার এই যুগে বিপদে আপদে পড়লে তারাই এগিয়ে আসে ত্রাতার ভূমিকায়৷ প্রভুভক্তিতে তাদের জুড়ি মেলা যে ভার তা আরও একবার প্রমাণিত হল৷ যে প্রভু টানা ১৬ বছর ধরে খাইয়ে দাইয়ে আদর যত্ন করে বড় করেছে, সেই প্রভুর জীবন বাঁচিয়ে ঋণ শোধ করল ব্রাউনি৷

মর্মস্পর্শী ঘটনাটি পুনের৷ সেখানকার এক সংবাদমাধ্যমে ব্রাউনির কীর্তির কাহিনী ফলাও করে ছাপা হয়েছে৷ শুধুমাত্র ব্রাউনির কারণে নতুন জীবন ফিরে পেলেন পঞ্চাশোর্ধ রমেশ সঞ্চেতি৷ পেশায় চিকিৎসক রমেশ সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হন৷ সেই সময় বাড়ির বাইরে বাঁধা অবস্থায় ছিল ব্রাউনি৷ রমেশের প্রতিবেশী অমিশ শাহ ব্রাউনিকে দেখে খাবার দিতে যান৷ তখন তাঁর চোখে ব্রাউনির অস্বাভাবিক আচরণ ধরা পড়ে৷ ভীষণ ছটফট করছিল সে৷ খাবার দেওয়া হলেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল৷ খালি জানলার দিকে তাকিয়ে ছিল৷ হয়তো সে বুঝতে পেরেছিল তার প্রভুর কিছু একটা হয়েছে৷ আর সেটা অমিতকে বোঝানোর জন্য বারবার জানলার দিকে ইশারা করছিল৷

ব্রাউনির আশঙ্কা যে ঠিক তা প্রমাণ হল কিছুক্ষণ পরেই৷ অমিত শাহ জানলা দিয়ে ভেতরে উঁকি মারতেই দেখেন মেঝেতে পড়ে আছেন রমেশ৷ সেই সময় রমেশের বাড়িতেও কেউ ছিল না৷ তাই দরজা ভেঙে দ্রুত ঘরে ঢুকে তাঁকে নিয়ে সোজা চলে যান হাসপাতালে৷

পরে সংবাদমাধ্যমের কাছে অমিত জানান, ব্রাউনির অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সন্দেহ হয়৷ খালি জানলার দিকে উঁকি মারার চেষ্টা করছিল সে৷ কিন্তু বাঁধা থাকায় তা পেরে উঠছিল না৷ প্রথমে তিনিও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান৷ পরে কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরে জানলা দিয়ে ভেতরে তাকান৷ ব্রাউনির জন্য বাবার চিকিৎসা সময়মতো শুরু হওয়ায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চিকিৎসকের ছেলে অমিত৷ জানান, ব্রাউনিই অমিত শাহকে সতর্ক করেছে বলেছে বাবার প্রাণ বেঁচে গিয়েছে৷