কানপুর: রক্ত ঝরে শহিদের। জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনে স্যালুট জানায় দেশ। আর কফিনবন্দি শহিদের কিছু আপনজনের চোখের জলে বেঁচে থাকে কিছু গল্প। একটা ভ্যালেন্টাইন’স ডে পেরিয়ে আরও একটা ১৪ ফেব্রুয়ারি আসে। দোকানে দোকানে গোলাপের বিক্রি বাড়ে। কারও কারও বুকে হয়ত রক্ত ঝরে আজও। সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়ঠিক যেমন কনৌজের শহিদের স্ত্রী নীরজের কানে সারা জীবন থেকে যাবে শব্দটা।

স্বামীর সঙ্গে তখনও কথা চলছিল ফোনে। হয়ত নিছকই ভালো থাকার খবর নেওয়া, কিংবা ভালবাসার দিনে কয়েকটা বাড়তি কথাই হচ্ছিল স্বামী প্রদীপ সিং যাদবের সঙ্গে। মিনিট দশেক কথা হওয়ার পরই হঠাথ একটা প্রচণ্ড শব্দ। কয়েক সেকেন্ডেই সব থমথমে। খানিকক্ষণের জন্য হৃৎস্পন্দন থেমে গেল নীরজের।

বারবার চেষ্টা করেও কোনও লাভ হল না। ততক্ষণে মনে মনে প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন নীরজ। তবু ‘সব শেষ’ এটা মানতে তো সময় লাগবেই।

সব সন্দেহ ভেঙে সিআরপিএফ কন্ট্রোল রুম থেকে ফোনটা এসেই গেল। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে সিআরপিএফ জওয়ান প্রদীপ সিং যাদবের।

তখন কানপুরে বাপের বাড়িতে ছিলেন নীরজ। সঙ্গে দুই সন্তান। খবর পেয়েই ছুটে যান সুখসেনপুরে প্রদীপের বাড়িতে। দু’দিন বাদে সেখানেই আসে তাঁর কফিনবন্দি দেহ।

বড় মেয়ে সুপ্রিয়ার বয়স তখন ১০ আর ছোট মেয়ে সোনা মাত্র ২ বছরের।

নীরজ বলেছিলেন, একরত্তি মেয়েটার খোঁজই নিচ্ছিলেন ফোনে। নীরজ বলেছিল, ‘কিছুক্ষণ কথা বলার পরই কানে আসে শব্দটা।’

প্রদীপের ভাই সোনু শুধু বলেছিল, ‘ভাইয়ের এই আত্মত্যাগের জন্য আমরা গর্বিত।’ শুধু গর্বটুকুই সম্বল। বীর জওয়ানের তকমা নিয়ে দেশের মানুষ হয়ত ভালো থাকতে পারে। কিন্তু ভালো থাকতে পারে না নীরজরা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।