১)

পুজো মোটে চারদিনের। কিন্তু বহুদিনের খাতায় একটু একটু করে জমা হয়ে আছে শহরের দুর্গাপুজোর ইতিহাস। আজ ফিরে তাকালে মনে হয়, কলকাতার শরীরে দুর্গাপুজো প্রায় জন্মজড়ুলের মতো। এই শহরের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তনের চালচিত্তিরটিকে প্রেক্ষাপট করেই তাই বদলে গিয়েছে দুর্গাপুজোর আজ কাল পরশু।

এ শহরে প্রথম দুর্গাপুজোর কৃতিত্বটি সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্মীকান্ত মজুমদারের। এই সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের সূত্রেই আমারা পৌঁছে যেতে পারি শহর কলকাতার জন্মলগ্নে। কেন দুর্গাপুজো আর কলকাতা প্রায় এক মুদ্রার এ-পিঠ ও-পিঠ হয়ে উঠল, সে আন্দাজ পাওয়া যাবে সেই কলকাতা হয়ে ওঠার দিনগুলো ফিরে দেখতে পারলে।

কলকাতার জন্মকাহিনি কিন্তু বেশ ধোঁয়াটে। ইংরেজ ঐতিহাসিকদের মতামত মেনে নিয়ে কলকাতার জনক হিসেবে জোব চার্নককেই এতদিন অবধি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সুতানুটির ঘাটে তিনি যখন তৃতীয় বারের জন্য পা রেখেছিলেন, সেই ১৬৯০-এর ২৪ অগস্ট দিনটিকেই কলকাতার জন্মদিন হিসেবে ধরা হয়ে এসেছে। কিন্তু ইতিহাস নাড়াঘাঁটা করে অনেক ঐতিহাসিকই এই দিনটিই যে কলকাতার জন্মদিন, সে বিষয়ে একমত হতে পারেননি। কেন পারেননি, তার জন্য জোব চার্নকের জীবনের দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক।pujo-panchali_only_for_site

চার্নক সাহেবের পূর্ব জীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। সাহেবের আদিবাস ছিল ল্যাঙ্কাশায়ারে, বাবা রিচার্ড চার্নক। ১৬৫৬ নাগাদ বছর ছাব্বিশের জোব সাহেব ব্রিটিশ কোনও এক বাণিজ্য সংস্থার চাকরি নিয়ে ভারতের মাটিতে পা দেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাশিমবাজার কুঠিতে বেতনভুক কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। হুগলিতে কিছুদিন কাটিয়ে সাহেব চলে যান পটনায়। সেখানে প্রায় দু’দশক চাকরি করেন এবং কোম্পানির পটনা কুঠির অধ্যক্ষও হন। এরপর কাশিমবাজার রেশম চালান কুঠির অধ্যক্ষ হন সাহেব। কিন্তু সাহেব গুণে কমতি ছিলেন না। টাকাপয়সা থেকে নারীঘটিত নানা কিসসায় জড়িয়ে শেষমেশ চলে আসেন কোম্পানির হুগলি কুঠিতে। এখানেই বছরকয়েক পর কোম্পানি তাঁকে বাংলার এজেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করে। সেই সময় বাংলার সুবেদার ছিলেন শায়েস্তা খাঁ। নানা কারণে ইংরেজদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ লেগেই থাকত। জোব সাহেব আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই নিজের কুঠিতে রাখার জন্য কোম্পানির থেকে কিছু গোলাবারুদ চেয়ে রেখেছিলেন। একদিন সেগুলিরই সদ্বব্যবহার করলেন। হুগলির মুঘল সুবেদারের আড়তে আগুন লাগিয়ে দিয়ে সাহেব পালালেন। হুগলি এবং বালেশ্বরে থাকা সুবিধা হবে না ভেবেই জোব সাহেব নিরাপদ একটা আশ্রয় খুঁজছিলেন। চোখে পড়ল হুগলির পূর্ব পাড়ে অবস্থিত নিরিবিলি একটি গ্রামে। সেখানেই আশ্রয় নিলেন জোব চার্নক। সুতানুটির মাটিতে সেই তাঁর প্রথম পদার্পণ, দিনটা ছিল ১৮৮৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর।

জোব সাহেব বোধহয় এখানেই থেকে যাবার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু মুঘলদের সঙ্গে বিবাদের জেরে তাঁকে আবার ঘর ছাড়তে হল। সুতানুটি ছেড়ে সাহেব গেলেন হিজলিতে। এদিকে ইংরেজদের সঙ্গে বিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল মুঘল রাজকোষ। তৎকালীন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে তা মোটেই সুখকর ছিল না। ওদিকে শায়েস্তা খাঁও কোম্পানির কর্মচারীদের থেকে যে ঘুষ-পত্র আদায় করতেন তাও বন্ধ হয়েছিল। সুতরাং আবার ইংরেজদের আমন্ত্রণ জানানো হল, এবং দ্বিতীয়বার সুতানুটিতে এলেন জোব চার্নক (১৬৮৭)।


সাবর্ণ রায়চৌধুরীরাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। আর ১৬৯৮ সালে আয়ারের সঙ্গে সেই চুক্তি। যে আটচালায় মায়ের পুজা হত, সেই আটচালাতে বসেই সুতানুটি, গোবিন্দপুর, কলকাতা গ্রামের সত্ব কিনে নেন আয়ার। শহর কলকাতার সঙ্গে দুর্গাপুজোর নাড়ির যোগ যে কেন, তা তাই সহজেই অনুমেয়। কলকাতার প্রথম পুজো তাই ৪০৫ বছরের পুরনো। কলকাতার তথাকথিত জন্মদিন ধরলেও দুর্গাপুজো আরও ৮০ বছরের পুরনো।


কিন্তু এবারেও থাকা হল না। মুঘলদের সঙ্গে চার্নকের বিবাদে জড়িয়ে পড়া নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন কোম্পানির কেষ্টবিষ্টুও। কোম্পানির তরফ থেকে হিথ সাহেব এসে তাই চার্নককে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিলেন। সেখানে মুঘল আর আরাকানদের একে অপরের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলে ফায়দা লোটার ইচ্ছে ছিল হিথের। কিন্তু সে বাসনা পূর্ণ হল না দেখে তিনি কোম্পানির বাণিজ্যের মূলকেন্দ্র মাদ্রাজে চলে গেলেন। এদিকে ইংরেজরা বাংলা থেকে পাট গোটাল দেখে মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব শান্তশিষ্ট ইব্রাহিম খাঁ-কে বাংলার সুবেদার রূপে নিয়োগ করলেন। এক আদেশনামায় বার্ষিক ৩০০০ হাজার টাকা শুল্কের বিনিময়ে বাংলায় ইংরেজদের ব্যবসা করার অনুমতি দিলেন আওরঙ্গজেব (১৬৯০)। আমন্ত্রণ পেয়ে তৃতীয়বারের মতো সুতানুটিতে এসে উপস্থিত হলেন জোব চার্ক। কোম্পানির খাতায় লেখা থাকল, ‘‘On board the Maddapollam. August 24th, This day at Sankraul orderd Capt. Brook to come up with his Vessell to Chutanuttee where We arrived about noon but found the place is in a deporable condition, nothing being left for ous present accommodation, and the Rains falling day and night, We are forced to betake ourselves to boats…’’।

সুতানুটিতে এসে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনাই ছিল চার্নক সাহেবের। সে হেতু জলা-জঙ্গলময় গ্রামটিকে তিনি একটু গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কোম্পানির থেকে উন্নয়নের জন্য অনুমতিও চেয়েছিলেন। কিন্তু আকস্মিক ১৬৯৩০-এর ১০ জানুয়ারি বিদেশ-বিভুঁইয়ের মাটিতেই দেহরক্ষা করলেন সাহেব। তাঁর মৃত্যুতে সুতানুটির ভার পড়ল এলিস নামে এক সাহেবের কাঁধে। কিন্তু এ সাহেব কোম্পানির ঠিক ভরসার পাত্র ছিলেন না। ফলে মাদ্রাজ কুঠির চিফ গভর্নর গোল্ডসবেরা নিজে দায়িত্ব নিলেন দেখভালের। সুতানুটিকে তাঁর মোটেও মনে ধরল না। ওখানকার পাঠ চুকিয়ে সাহেব কুঠি তুলে আনলেন পাশের কলকাতা গ্রামে। শুরু হয় নতুন গ্রামে কুঠি তৈরির কাজ, যা পরে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নামে পরিচিত। গোল্ডসবেরা সাহেবের মৃত্যুর পর চার্নকের জামাই চার্লস আয়ারকে কুঠির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হল।

বাংলার তথা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তখন পটপরিবর্তনের পালা। আওরঙ্গজেবের ক্ষমতা ক্রমশ কমছে। বাংলার সুবেদার হিসেবে ছিলেন বাদশাহের নাতি আজিম-উস-শান। দিল্লির ক্ষমতার প্রতি তাঁর বিলকুল লোভ ছিল। বুদ্ধিমান আয়ার সাহেব সুযোগ কাজে লাগালেন। সুবেদারকে অর্থ দিয়ে ইংরেজরা তিনটে গ্রাম কেনেন, কলকাতা, গোবিন্দপুর এবং সুতানুটি।PUJO

এই গ্রাম তিনটিই ছিল সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের শাসনাধীন। আগে এগুলি ছিল যশোহরের রাজা বসন্ত রায়ের সম্পত্তি। পরে তা হাতে আসে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদারের। তাঁর বিরাট জমিদারির অংশই ছিল এ তিনটে গ্রাম। জমিদাররা গোত্রে ছিলেন সাবর্ণ। মুঘল রাজদরবার থেকে ‘রায়চৌধুরী’ উপাধি পেয়েছিলেন। দুয়ে মিলে তাঁরা পরিচিত ছিলেন সাবর্ণ-রায়চৌধুরী হিসেবে। ইংরেজরা ১৩০০ টাকার বিনিময়ে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের থেকে তিনটে গ্রামের প্রজাস্বত্ব কিনে নেন (১৬৯৮, ১০ নভেম্বর)। ১৬৯৯ সালে কোম্পানির ডাইরেক্টররা কলকাতাকে স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্সি হিসেবে মান্যতা দেন। চার্লস আয়ারকেই প্রথম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের যে আটচালাতে বসে আয়ার এ চুক্তি করছেন, সেখানেই বিগত ৮৮ বছর ধরে হয়ে চলেছিল সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের দুর্গাপুজো। ২০০১ সালে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ছিলেন ইতিহাসবিদ নিমাইসাধন বসু, বরুণ দে, প্রদীপ সিংহ, অরুণ দাশগুপ্ত ও সুশীল চৌধুরী। এই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে, তৎকালীন প্রধান-বিচারপতি অশোককুমার মাথুর ও বিচারপতি জয়ন্তকুমার বিশ্বাস রায় দেন যে, কলকাতার কোনও নির্দিষ্ট জন্মদিন এবং প্রতিষ্ঠাতা নেই (১৬ মে, ২০০৩)। সেই রায়েই তাঁরা জানিয়ে দেন, চার্নক আসার আগে থেকেই সভ্য শহর এবং অন্যতম ব্যাবসা কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার অস্তিত্ব ছিল (‘highly civilised society’ and ‘an important trading centre’)।

আরও একটা বিষয়, ধর্মীয় স্থান হিসেবেও কলকাতার বরাবর প্রসিদ্ধি ছিল কালীর অধিস্থানের জন্য। নাম ছিল ‘কালিকট’। সপ্তদশ শতকে বিপ্রদাস পিপলাইয়ের ‘মনসামঙ্গল’-এর প্রক্ষিপ্ত অংশে ‘কলিকাতা’র  উল্লেখ মেলে।

ডাহিনে কোতরং বাহে কামারহাটি বামে।

পূর্বেতে আড়িয়াদহ ঘুষুড়ি পশ্চিমে।।

 

চিৎপুরে পূজে রাজা সর্বমঙ্গলা।

নিশি দিশি বাহে ডিঙ্গা নাহি করে হেলা।।

 

তাহার পূর্বকূল বাহিয়া এড়ায় কলিকাতা।

বেতড়ে চাপায় ডিঙ্গা চাঁদ মহারথা

 

কালিঘাটে চাঁদ রাজা কালিকা পুজিয়া।

চুড়াঘাট বাইয়া যায় জয়ধ্বনি দিয়া।।

 

আবার চণ্ডীমঙ্গলেও কলিকাতার দেখা মেলে,

 

ধালিপাড়া মহাস্থান               কলিকাতা কুচিনান

        দুই কূলে বসাইয়া বাট।

পাষাণে রচিত ঘাট                দুকূলে যাত্রীর নাট

        কিঙ্করে বসায় নানান হাট।।

 এই কালীঘাটের কথাতেও জড়িয়ে আছেন সাবর্ণ রায়চৌধুরীরা। কলকাতার নামকরণের যে কটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা মেলে তার মধ্যে সবথেকে উল্লেখ্য যে, এই কালীক্ষেত্র থেকেই কলকাতা  নাম এসেছে। এবং এই কালীক্ষেত্রর ইতিহাস আরও প্রাচীন। অতীত যে ‘কালীক্ষেত্র’-এর উল্লেখ পাওয়া যায় তার অবস্থান ও সময় নিয়ে নানা ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে। অনুমান রাজা বল্লাল সেনের আমলেই সম্ভবত ঘন জঙ্গলে আকীর্ণ অঞ্চলে দেবী কালীর পূজা হত।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে সতীর একান্ন পিঠের একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয় কালীঘাটকে। সতীর ডান পায়ের কনিষ্ঠ আঙুল এখানে পড়েছিল বলে মনে করা হয়। আবার চোরঙ্গি অঞ্চলের নামও এসেছে এই কিংবদন্তি থেকে, চেরা অঙ্গ থেকেই চেরাঙ্গি বা চৌরঙ্গি। ভবানীপুর-এর নামের সঙ্গেও ভবানী বা কালীর যোগ। এই কারণেই অতীত কালীক্ষেত্রের আয়তন এখনকার কালীঘাটের তুলনায় অনেক বেশি ছিল, দক্ষিণেশ্বর থেকে বেহালা অবধি ছিল তার বিস্তার।

সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের ঐতিহাসিক আটচালায় মায়ের আবাহন
সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের ঐতিহাসিক আটচালায় মায়ের আবাহন

তবে ‘কালীঘাট’ এই শব্দটিকে খুঁজে পেতে আবার শরণ নিতে হবে বিপ্রদাস পিপলাইয়ের। তাঁর মনসামঙ্গলে কালীঘাট এবং কলিকাতা স্পষ্টতই দুটো আলাদা জায়গা হিসেবে উল্লেখিত। একইরকম ভাবে কবিকঙ্কনের চন্ডীমঙ্গলেও দেখা যায়, শ্রীমন্তের গমন অংশ বর্ণিত হচ্ছে এভাবে-

‘ কলিকাতা এড়াইল বেনিয়ার বালা/বেতড়েতে উত্তরিল অবসান বেলা’…এর কিছুটা পরে এসে পাওয়া যায়, ‘বালিঘাটা এড়াইল বেনিয়ার বালা/কালীঘাট গেল ডিঙ্গা অবসান বেলা।/মহাকালীর চরণ পূজে সদাগর/তাহার মেলান বেয়ে যায় মাইনগর।’ আবার ক্ষেমানন্দের রচনাতেও প্রায় একই রকম বর্ণনা মেলে। সেই থেকে অনুমান করা হয়, কালীর অবস্থান বহু আগেই থেকে ছিল এবং ধীরে ধীরে তা প্রতিষ্ঠা পেতে থাকে। ১৫৮০-৮২ সাল নাগাদ আকবরের শাসনকালে এক বাংলায় একজন উদার হিন্দু মন্ত্রী রাজস্ব আদায়ে নিযুক্ত হন। তাঁর সময়ে এবং রাজা মানসিংহের সময়ে হিন্দু ধর্ম যথেষ্ট প্রসার লাভ করে। আফগান শাসকদের সময়কালে দমে যাওয়ার পর এই পর্বেই আবার তিনজন হিন্দু তন্ত্র সাধকের উত্থানের কথা শোনা যায়, যাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পূর্বসূরী লক্ষ্মীকান্ত।

সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের সঙ্গে কালীঘাট প্রতিষ্ঠার নিবিড় যোগ আছে। কথিত লক্ষ্মীকান্তর কোনও এক পূর্বপুরুষই এই কালীর খোঁজ পেয়েছিলেন। তিনি কামদেব ব্রহ্মচারী নামে কোনও অঞ্চলে খ্যাত ছিলেন। একদা মানসিংহ তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছিলেন, এবং মানসিংহ তাঁর শিষ্যও হয়েছিলেন। রাজা প্রতাপদিত্যকে শায়েস্তা করতে যখন মানসিংহ আবার বাংলায় এলেন, তখন গুরুপুত্র লক্ষ্মীকান্ত রাজা প্রতাপাদিত্যের কর্মচারী। গুরুপুত্রকে রাজার কাজ থেকে বের করতে তিনি খোঁজ শুরু করেন, এবং জয়ানন্দের সহায়তায় তাঁকে কালীঘাটে খুঁজে পান। ভবানন্দ নামে আর একজনও এই পর্বে মানসিংহকে অনেক সাহায্য করেন। প্রতাপাদিত্যের পতনের পর এই তিনজনকেই কালেক্টর পদ দেওয়া হয়। বিত্তে ও সুনামে লক্ষ্মীকান্ত পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং তাঁর সূত্রে পরিচিতি পায় কালীঘাট ও কলকাতা পরগনা।

এই সাবর্ণ রায়চৌধুরীরাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। আর ১৬৯৮ সালে আয়ারের সঙ্গে সেই চুক্তি। যে আটচালায় মায়ের পুজা হত, সেই আটচালাতে বসেই সুতানুটি, গোবিন্দপুর, কলকাতা গ্রামের সত্ব কিনে নেন আয়ার। শহর কলকাতার সঙ্গে দুর্গাপুজোর নাড়ির যোগ যে কেন, তা তাই সহজেই অনুমেয়। কলকাতার প্রথম পুজো তাই ৪০৫ বছরের পুরনো। কলকাতার তথাকথিত জন্মদিন ধরলেও দুর্গাপুজো আরও ৮০ বছরের পুরনো। মুসলমান আমলেও শহরে মা এসেছেন সাদরেই৷ তারপর শহর আর দুর্গাপুজো ক্রমশ হাত ধরাধরি করে পা রেখেছে বিবর্তনের সরণিতে।

সরোজ দরবার

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.