পরাগ মজুমদার,মুর্শিদাবাদ: রাজা নেই। নেই রাজ্যপাটও। এদিকে পুজো পরিচালনার খরচও বিপুল৷ একসময় পুজোয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়৷ তখনই এগিয়ে আসেন গ্রামবাসীরা৷ তাঁদের হাত ধরে আজও বহাল তবিযতেই জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গা পুজো হয় লালগোলার মহারাজ যোগীন্দ্র নারায়ণ রায়ের কাচারি বাড়িতে৷ কালের নিয়মে রাজার পুজো পরিণত হয়েছে বারোয়ারি পুজোতে৷ ফি বারই এই পুজোকে ঘিরে উৎসবের আকার নেয় লালগোলার আস্ত জমিদার গ্রামটা৷

গ্রামবাসীরা জানান, লালগোলার মহারাজ যোগীন্দ্র নারায়ণ রায় প্রজাদের কাছে ‘দান’ বীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন৷ রাজকার্য পরিচালনার জন্য যোগীন্দ নারায়নের নির্দেশে কালমেঘাতে কাচারি বাড়ি তৈরি হয়৷ কিন্তু একসময় কালমেঘা অঞ্চলের বাসিন্দারা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েন৷ তখনই কাচারিবাড়িতে দেবী আরাধনার সূচনা করেন মহারাজ৷ স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত রায় বলেন, ‘‘পূর্ব পুরুষের মুখে শুনেছি, একসময় বেশ জাঁকজমক করেই হত শতাব্দী প্রাচীন এই পুজো৷ পুজোর সময় মহারাজ সপরিবারে কাচারি বাড়িতে আসতেন। প্রজাদের বস্ত্র বিতরণ করতেন৷ পুজোর দিনগুলো প্রজাদের পাত পেড়ে খাওয়ানো হত৷ গ্রামে বসত মেলা৷’’

গ্রামবাসীরা জানান, পুজো উপলক্ষ্যে এখনও গ্রামে মেলা বসে, তবে তা আকারে অনেক ছোট৷ রাজার অবর্তমানে একসময় পুজো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল৷ তখন মানিকচক গ্রামের মিহির রায় এগিয়ে আসেন৷ বেশ কয়েক বছর রায় পরিবার পুজো পরিচালনা করেন৷ কিন্তু একসময় তাঁরাও আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েন৷ তখন গ্রামের সরকার ,দাস ও মিস্ত্রি সম্প্রদায়ের মানুষ সকলে মিলে পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ বর্তমানে কমিটি গড়েই পুজো হয়৷ কমিটির অন্যতম কর্তা, অধ্যাপক দিলীপ সরকার বলেন, ‘‘রাজার পুজো বলে কথা৷ ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে৷ এই পুজো তো বন্ধ হতে দেওয়া যায় না৷ তাই আমরা গ্রামবাসীরা সকলে মিলে এখন পুজো পরিচালনা করি৷৷’’

বর্তমানে বলি প্রথা বন্ধ করা হলেও পুজোয় মহারাজার আমলের সাবেকি নিয়ম আজও অটুটু রয়েছে৷ তবে এখন পাঁচদিনের পরিবর্তে এখন একদিন গ্রামের সকলকে পাত পেডে় খাও?ানো হয়৷ কাচারি প্রাঙ্গণে বসে মেলা৷ ফি বছরের মতো এবারও নবমীতে নিয়ম মেনে মায়ের ভোগে থাকছে ইলিশ,পাঁচ রকম ভাজা এবং পাঁচ তরকারির পদ। তাই জৌলুসে সামান্য ভাটা পড়লেও আপ্যায়ন,আন্তরিকতা আজও ভীষণভাবেই অটুটু মহারাজার পুজোয়৷