কলকাতা: ঢাকুরিয়ার ‘বাতায়ন’৷ এখানেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কলকাতার ঠিকানা৷ প্রণববাবুর শোওয়ার ঘরেই রয়েছে ঠাকুরের সিংহাসন৷ সেখানেই তাঁর আরোগ্য কামনায় পুজো করছেন ছায়াদেবী৷

আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী এই ছায়াদেবীকে বাড়ির পরিচারিকা হিসেবে নিযুক্ত করেন৷ তারপর ধীরে ধীরে মুখোপাধ্যায় পরিবারেরই একজন হয়ে উঠেছেন৷ সেই থেকে ঢাকুরিয়ার ‘বাতায়ন’এর প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে তিনি রয়েছেন৷

সত্তরোর্ধ্ব ছায়াদেবী ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছেন,দ্রুত সুস্থ হয়ে প্রণববাবু নিজের বাড়িতে একবার আসুন৷ প্রণববাবুর শোওয়ার ঘরে ঠাকুরের যে সিংহাসন রয়েছে,সেখানে তিনি ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছেন৷ মাঝে মাঝে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছেন প্রণববাবু কেমন আছেন৷

এদিকে শুক্রবার সকালেও প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। অপরিবর্তিত রয়েছে পরিস্থিতি, এমনটাই জানিয়েছে আর্মি রিসার্চ এবং রেফারাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইনটেনসিভ কেয়ারে আছেন এবং এখনও তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তবে পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি বর্তমানে স্থিতিশীল।

সোমবার করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৮৪ বছরের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ব্রেনে সার্জারির পর থেকেই ভেন্টিলেটর সাপোর্টে আছেন তিনি। অবস্থার বিশেষ কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। মাঝেই মাঝেই তৈরি হচ্ছে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি।

প্রণবপুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায় বাবার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ‘গুজব’ এবং ‘ভুল’ খবরকে উড়িয়ে দিয়েছেন। বুধবার একটি ট্যুইটে প্রণবপুত্র জানিয়েছেন, “আপনাদের সবার প্রার্থনায়, আমার বাবা হেমোডায়নামিক্যালি স্টেবল আছেন। তাঁর সুস্থতার জন্য সবাই প্রার্থনা করুন”।

সোমবার নিজেই ট্যুইট করে করোনা পজিটিভ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। যারা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন প্রত্যেককে আইসোলেশনে গিয়ে কোভিড টেস্ট করতে বলেছেন তিনি।

প্রণবকন্যার সঙ্গে ফোনে কথা বলে প্রণব মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্যের হালহকিকত জেনেছেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া হাসপাতালে পৌঁছে তাঁর খোঁজ নিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রাহুল গান্ধী দ্রুত সুস্থতার বার্তা পাঠিয়েছেন।

বুধবার নিজের ট্যুইটার হ্যাণ্ডেলে আবেগপ্রবন হয়ে প্রণবকন্যা লিখেছেন, “গত বছর অগাস্টের ৮ তারিখ সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল, বাবা ভারতরত্ন পেয়েছিলেন। ঠিক একবছর পরে অগাস্টের ১০ তারিখ সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন। বাবার জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো ভগবান যেন তাই করে। আমি আনন্দ এবং দুঃখ সবকিছুর জন্য শক্তি রাখতে পারি। আমি মন থেকে সকলকে তাঁদের ভাবনার জন্য ধন্যবাদ জানাই”।

পৈতৃক ভিটে বীরভূমের কীর্ণাহারে ইতিমধ্যেই দ্রুত সুস্থতা কামনায় ৭২ ঘণ্টার যজ্ঞ হয়েছে। সেখানে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁর বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য সহ কাছের মানুষরা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও