কলকাতা: তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির সভাপতি। সাহিত্য আকাদেমির বাংলায় উপদেশক পর্ষদের আহ্বায়কও তিনি। তিনি কবি সুবোধ সরকার। কিছুদিন আগেই ‘লাভ ইন কাশ্মীর’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, “রোজ সকালে ৪/৫ ঘণ্টা ধরে লেখালিখি করি। কবিতা লেখার সময় আমি কবিতা আকাদেমি, সাহিত্য আকাদেমি এবং ভাষানগরকে মাথা থেকে সরিয়ে রাখি।” সেই ব্যস্ততম কবি সুবোধ সরকারের মুখে এবার উঠে এল ছোটবেলার পুজোর স্মৃতি।

kolkata24x7-কে তিনি বলেন, “আমার ছোটবেলার পুজো খুব সুখের ছিল না। আমি যখন ক্লাস ইলেভেনে পড়ি তখন বাবা চলে যান ক্যানসারে। কৃষ্ণনগরে যে পাড়ায় থাকতাম সেখানে একটা বিরাট পুজো হত। একমাস ধরে তার প্রতিমা তৈরি হত। আমি প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে প্রতিমা বানানো দেখতাম। দুর্দান্ত আনন্দ ছিল মনে। কিন্তু, ষষ্ঠী সপ্তমী অষ্টমী যত এগিয়ে আসত ততই আমার মুখ ছোট হয়ে যেত। কারণ, আমি জানতাম, যে বন্ধুরা আমার সঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিমা বানানো দেখছে তাদের সকলের নতুন জামা হবে, নতুন জামা হবে না আমার।”

এভাবেই ছোটবেলার অভাবের কথা উঠে এলো সুবোধ সরকারের মুখে। যদিও তিনি মনে করেন, “দুর্গা পুজোর এমন একটা ক্ষমতা আছে যা সবার দুঃখকে ভুলিয়ে দিতে পারে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রত্যেক ঢাকির সঙ্গে একটা করে বিষণ্ণ বালক থাকে। ছেলেটা ঢাকির সঙ্গে গ্রাম থেকে আসে। ঢাকির সঙ্গে বাজাতে বাজাতে ওর সারা পুজো কেটে যায়। পুজোর শেষে সে হয়তো একটা জামা পায়। আমি ওই বিষণ্ণ ছেলেটার মধ্যে নিজের ছোটবালাকে দেখতে পাই।” তবে আজকাল বদলে গিয়েছে জীবন। এখন বিচারকের ভূমিকায় মণ্ডপে মণ্ডপে যেতে হয় কবিকে।

এ প্রসঙ্গে সুবোধ বলেন, “এখনকার পুজো অবশ্য একটু আলাদা। একটু কেন, অনেকটাই আলাদা। তৃতীয়া চতুর্থী পঞ্চমী কাটে মণ্ডপে মণ্ডপে বিচারকের ভূমিকায়। যদিও এটা খুব একটা ভাল কথা নয়! তবু এর গুণ হল, পঞ্চমীর মধ্যেই কলকাতার প্রায় সব পুজো দেখা হয়ে যায়।”