সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : শিশির গুপ্তা। তিনি পুজো পালন করেন একটু অন্য রকম ভাবে। সবাই যখন পরিবার নিজের বন্ধুদের নিয়ে ঠাকুর দেখতে যান তখন শিশির বাবুর ঠাকুর দেখার সঙ্গী বয়স্ক মানুষরা। ওরা ঠাকুর দেখেন আর উনি দেখেন ওদের। এবার পরিস্থিতি অন্য ছিল। ঠাকুর দেখাই ঝক্কি এবং ঝুঁকিও বটে। বোধন না দেখা হলেও মায়ের বিসর্জনকালে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা করে দিলেন শিশিরবাবু।

শিশির গুপ্তা বলেন , ‘মানুষ গুলো পুজোয় ঘুরতে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন ঠাকুর দেখতে। হাজারো কষ্ট অভিমান ভুলে হেসে ওঠেন। এবার ওঁদের মুখে হাসি নেই এই করোনার জন্য। তাই ঠিক করি দেরী হলেও ঠাকুর, মণ্ডপ এসব দেখার ব্যাবস্থা করে দেব’ শিশিরবাবু ওঁদের ভার্চুয়ালি ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা করেছেন। পুরোটাই ভিডিও করেছেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শুধুমাত্র তাদের জন্য। ওদের পছন্দের ঠাকুর গুলো নিয়ে। মোবাইলে দেখে দুধের স্বাদ ঘোলে হলেও। ঠাকুরের মুখ খানি দেখার সাধ মিটেছে ওই প্রবীণদের।

প্রসঙ্গত এবার করোনা পরিস্থিতিতে বিসর্জনের আগে সিঁদুরখেলা বা শোভাযাত্রা কোনটাই হচ্ছে না। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা সরাসরি চলে যাচ্ছে ঘাটে। মায়ের সামনে বাজছে না ব্যান্ডপার্টি। কারন , করোনা পরিস্থিতিতে সব রকমের শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। এবার প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে নির্ধারিত দিন ও সময় মেনেই, নির্দেশ পুলিশের।

পুজো কমিটিগুলিকে বিসর্জন সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, করোনা পরিস্থিতিতে পালটে গিয়েছে প্রতিমা বিসর্জনের পদ্ধতি। কলকাতা পুলিশের আওতায় ২৪টি মূল ঘাট–সহ মোট ৩০টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া যায়। মূল ঘাটগুলির মধ্যে রাজাবাগান, নাদিয়াল, গার্ডেনরিচ এলাকায় একটি করে, দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকায় তিনটি ও উত্তর বন্দর এলাকায় ১৮টিতে বিসর্জন দেওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে ছ’টি ছোট ঘাট, সেখানও দেওয়া যেতে পারে বিসর্জন।

শুধু সোমবারেই ১৮০০ প্রতিমা বিসর্জন হয়। সেই রুটও ঠিক করে দিয়েছে পুলিশ। রাসবিহারী অ্য়াভিনিউ হয়ে কালীঘাট-টালিগঞ্জ। হাজরা হয়ে হরিশ মুখার্জী রোড হয়ে বলরাম বসু ঘাট রোড। রেড রোড হয়ে রাণী রাসমণি অ্য়াভিনিউ-কিংস ওয়ে দিয়ে স্ট্র্যান্ড রোড। যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ থেকে মদনমোহন স্ট্রিট হয়ে রবীন্দ্র সরণি। যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ হয়ে বিকে পাল অ্যাভিনিউ হয়ে নিমতলা ঘাট। মহর্ষি দেবেন্দ্র নাথ রোড হয়ে আহিরীতলা স্ট্রীট হয়ে স্ট্র্য়ান্ড ব্য়াঙ্ক রোড। চিত্তরঞ্জন অ্য়াভিনিউ হয়ে যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ হয়ে বিডন স্ট্রীট হয়ে নিমতলা ঘাট স্ট্রীট হয়ে স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।